মোঃ জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা।
ঈদুল ফিতরের উপলক্ষে ঈদের প্রথম দিনে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প এবং উত্তরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র তিস্তা ব্যারাজে বিনোদনপ্রেমী পর্যটকের ভিড় জমে উঠেছে। ঈদের নামাজ আদায়ের পর অনেকেই তাদের পরিবারের সাথে নিয়ে তিস্তা ব্যারাজে আসতেছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা এবং নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সংযোগস্থল তিস্তা ব্যারাজে ঈদের দিন থেকে কয়েক দিন হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় থাকে। তবে, বিপুল সংখ্যক পর্যটকের বিপরীতে পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তিস্তা ব্যারাজ দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি এবং একই সাথে উত্তরাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। তিস্তা ব্যারাজ এলাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ, কৃত্রিম জলাশয়, সেচ খাল, বনায়ন এবং পাথরের পাড় মনোরম পরিবেশ তৈরি করে। সকালে এখনও কিছুটা শীতের পরিবেশ থাকে, তাই অতিথি পাখিরাও এখানে আসে। ১৯৯০ সালে তিস্তা নদীর উপর নির্মিত ব্যারাজটি জল নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন এবং পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে মার্চ মাসের শেষের দিকে হওয়ায় ঈদের সময় নদীতে খুব বেশি জল থাকে না। যদিও উত্তরাঞ্চল গরম পড়তে শুরু করেছে, আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকে। তিস্তা নদীর বালির তীর এবং ব্যারাজের পাশের জল এক অনন্য সৌন্দর্য তৈরি করে। পর্যটকদের উৎসাহিত করতে তিস্তার বুকে কয়েকটি স্পিডবোট চলছে। এগুলো দ্রুত বেগে এ পাশ থেকে ওপাশে ছুটে চলছে পর্যটকদের নিয়ে। স্পিডবোট ও পালতোলা নৌকায় তিস্তার বুকে ভাসছেন দর্শনার্থীরা।
ঈদে তিস্তা ব্যারেজের আশেপাশে বিভিন্ন ধরণের খাবারের দোকান বসানো হয়েছে। এই দোকানগুলিতে সাধারণত ভাতের তরকারি, ডাল, ভাজি, স্থানীয় মাছ, চা, জলখাবার এবং ঠান্ডা পানীয় বিক্রি হয়। যেখানে পিঠা, ভাজাপোড়া এবং ফাস্ট ফুডও বিক্রি হয়। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য খাবারের সহজলভ্যতা থাকলেও, উন্নতমানের রেস্তোরাঁ বা পরিবারের সাথে বসে খাওয়ার জন্য পরিষ্কার পরিবেশের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের খাবারের সময় যখন ভিড় বৃদ্ধি পায়, তখন খাবার শেষ হয়ে যায় বা দেরিতে পরিবেশিত হয় বলে কিছুটা হতাশাজনক।
তিস্তা ব্যারেজে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পর্যটকরা দূর-দূরান্ত থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং নদীর বিশাল জলরাশির চারপাশে ছবি তুলতে আসেন। বিকেল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত, ছবি তোলা যায়, বিশেষ করে নদীর তীর, স্লুইস গেট এবং ব্যারেজে দাঁড়িয়ে। ক্যামেরা সহ ছবি তোলার জন্য সেখানে মোবাইল ফটোগ্রাফার রয়েছে। তিস্তা ব্যারেজে পর্যটকদের চাপ বৃদ্ধি পেলে যানজট, ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ঘুরতে আস দর্শনার্থীরা বলেন, ঈদ আনন্দে প্রতি বছর এই তিস্তা ব্যারাজে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। বছরে একবার পরিবার পরিজন নিয়ে এই ব্যারাজে ঘুরতে আসি। অনেক আনন্দ উপভোগ করি এই জায়গাটি পর্যটন এলাকা ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। ব্যারাজ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আনসার সদস্য বলেন, ঈদের প্রথম দিন ও দ্বিতীয় দিন প্রচুর যানজট সৃষ্টি হয়। তারপরও চেষ্টা করেছি ঘুরতে আসা মানুষদের নিরাপত্তা দিতে। আরও জানা যায়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিমলা থানা ও হাতীবান্ধা থানা পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাতীবান্ধা থানা ও ডিমলা থানা পুলিশের টহল জোরদার করেছে।