Friday, April 10, 2026
Friday, April 10, 2026
Homeরাজনীতিএসএমই ফাউন্ডেশনের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার...

এসএমই ফাউন্ডেশনের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে প্রতিযোগিতা
মূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি বলেছেন, লিস্ট ডেভলপড কান্ট্রিজ (এলডিসি) গ্র্যাজুয়েশন সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১২টি ব্যাংক ও ৪টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে এসএমই খাতের জন্য সহজ শর্তে এবং সময়োপযোগী অর্থায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে স্বল্পমূল্যের জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন বাহ্যিক চ্যালেঞ্জও যুক্ত হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অনেক কনসেশনাল ঋণের সুযোগ ইতোমধ্যে সীমিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো সংকুচিত হবে। ফলে দেশের অর্থনীতিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অপরিহার্য। শুধু উন্নয়ন নয়, বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতেও আমাদের একটি নির্দিষ্ট হারে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মান প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যবধান কমাতে না পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিশেষ করে জিডিপিতে ভূমিকা রাখতে যোগ্য করে তুলতে কাজ করছে সরকার।
উল্লেখ্য, স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের রিভলভিং ফান্ড থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হবে। একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এই ঋণের সুদের হার হবে ৮ শতাংশ। এ লক্ষ্যে ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকটার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)-এর সাথে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদেরকে ৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। এই প্রকল্পে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে অংশীদার ১১টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন এবং শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

Previous article
Next article
শিবগঞ্জে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার সমাপ্তি শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ উপজেলায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার সমাপ্তি হয়েছে। ৪৭তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও ১০ম বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর অংশ হিসেবে এই মেলার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী দেখানো হয়। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিক আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার শাহিন আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কাজ ও প্রযুক্তি প্রদর্শন দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা তৌফিক আজিজ বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা ও প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে এবং উদ্ভাবনী মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তি বিষয়ে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত প্রজেক্ট প্রদর্শন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রোবটিক্স, সোলার সিস্টেম, বায়োটেকনোলজি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রদর্শনী। এছাড়াও মেলায় বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরামর্শ পায়।
সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: