
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হাসনাজি উত্তর দৌলতপুর বড়বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত হাজী মো. রইস আলী। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বাদ আসর বড়বাড়ির মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বেলা ৫টার দিকে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এসময় উপস্থিত পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা দাফনকাজে অংশ নেন। এ সময় হাজী মো. রইস আলীর বড় ছেলে মো. ইমরান আলী রুহেল ও তার ছোঁট ছেলে মো. সুমেল আলী নিজ হাতে বাবাকে কবরে শায়িত করেন। এইসময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে একে একে তাঁর পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কবরে মাটি দিয়ে মরহুমের দাফন সম্পন্ন করেন।
এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের ওল্ডহাম সেন্ট্রাল জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত জয়। এরপর আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্য থেকে বিমানযোগে দুপুরে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। ওইদিন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হাসনাজি উত্তর দৌলতপুর ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক বড়বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
জানাজার পূর্ব মূহুর্তে মরহুম হাজী মো. রইস আলীর বড় ছেলে বলেন, ‘আমার বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল তাঁকে যেন বাংলাদেশে দাফন করি, তাই বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে আমরা তাঁকে নিয়ে বাংলাদেশে আসি। আমার বাবা একজন সদা হাস্যজ্বল এবং সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। যুক্তরাজ্যে থাকলেও আমার বাবার মন ও টান ছিল দেশের মাটিতে, দেশের মানুষের জন্য। তিনি সবসময়ই মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। আপনারা দোয়া করবেন, আমরা সন্তানরা যেন বাবার সেই পথ অনুসরণ করতে পারি। আপনারা তাঁর জন্য দোয়া করবেন।’
এসময় তাঁর ভাতিজা ফারুক আলী বলেন, ‘আমার চাচা এই দেশটাকে বেশি ভালোবাসতেন। ওনার শেষ কথাগুলোর মধ্যে একটি ছিল-সবার আগে দেশ, আমার মাটি। আমার চাচা যদি কারও মনে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনারা তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন।’
এসময় বিশ্বনাথ উপজেলার হাসনাজি উত্তর দৌলতপুর, দশপাইকা, ধনপুর এলাকাসহ পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রবিবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার শহরের রয়্যাল ওল্ডহাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হাসনাজি উত্তর দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব হাজী মো. রইস আলী। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। গত রবিবার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে, ৫ মেয়ে এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বিশ্বনাথের হাসনাজি উত্তর দৌলতপুর এলাকার (বড়বাড়ি) মরহুম ইসাক আলীর ছেলে।
হাজী মো. রইস আলী দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে আসছিলেন। একজন দানশীল ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে প্রবাসী কমিউনিটি এবং নিজ এলাকায় তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ছিল। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্বনাথের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিজ্ঞপ্তি



