Saturday, January 17, 2026
Saturday, January 17, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনজুমা সামাজিক ঐক্যের প্রতীক |

জুমা সামাজিক ঐক্যের প্রতীক |

জুমা সামাজিক ঐক্যের প্রতীক | মাহবুব চৌধুরী।

জুমা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের দিন নয়, এটি সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। খুতবার মাধ্যমে মানুষ সঠিক পথের দিকনির্দেশনা পায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন ইমাম খুতবা দেন, তখন তোমরা নীরবে শোনো।’ (সহিহ্ বুখারি: ৯৩৪)। যদি প্রতিটি জুমা আমাদের চিন্তায় ও চরিত্রে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে সমাজ বদলে যাবে।

জুমা শুধু সপ্তাহের একটি দিন নয়; এটি আত্মার এক নতুন সূচনা। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন হলো সপ্তাহের সেরা দিন। এই দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছিলেন, এই দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে নামানো হয়।’ (সহিহ্ মুসলিম: ৮৫৪)। অর্থাৎ জুমার দিন আমাদের জীবনের জন্য নতুন আশার প্রতীক। প্রতিটি জুমা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এখনো সময় আছে, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা যায়, জীবন বদলানো যায়।

জুমার নামাজ শুধু শরীরের ইবাদত নয়, এটি আত্মারও পরিচ্ছন্নতা। আমরা যখন এক কাতারে দাঁড়াই, তখন ধনী-গরিব, নেতা-জনতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সব বিভেদ মুছে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ভালোভাবে অজু করে, তারপর জুমার নামাজে আসে, খুতবা শোনে ও নীরব থাকে; তার এক জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হয়।’ (সহিহ্ মুসলিম: ৮৫৭)।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা করো, যেন তোমরা সফল হও।’ (সুরা নুর: ৩১)। তওবা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সাহসের প্রকাশ। যে নিজের ভুল বুঝে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, সে প্রকৃত সাহসী। এই জুমা হোক সেই সাহস অর্জনের দিন—পুরোনো গাফিলতি ভেঙে নতুন জীবনের শুরু করার সময়।

লেখক – বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: