Tuesday, February 24, 2026
Tuesday, February 24, 2026
Homeসম্পাদকীয়ডিমলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা।

ডিমলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের অনুসন্ধানে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা।

মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে অবৈধ পাথর উত্তোলনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও ডিমলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাদশা প্রামাণিক। পরিকল্পিতভাবে তথ্য সংগ্রহে বাধা দিতে এবং অনিয়ম আড়াল করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিক্স-সিলিন্ডার বোমা মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গেলে দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদীর তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলনের ফলে তিস্তার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে, হুমকির মুখে পড়ছে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও পরিবেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।হামলায় গুরুতর আহত বাদশা প্রামাণিককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত হলেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, মুক্ত সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থভিত্তিক অনুসন্ধানের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথাও জানান তিনি। ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া নদী থেকে পাথর বা বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী অবৈধ উত্তোলনের ক্ষেত্রে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ করার বিধান রয়েছে। বিস্ফোরকচালিত যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি জননিরাপত্তার জন্যও গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে দীর্ঘদিনের অবৈধ উত্তোলন নদীর গতিপথ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর হামলা ঘটনাটিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ, নদী রক্ষা এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। আহত সাংবাদিকের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও জোর দাবি উঠেছে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: