মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
ঘন কুয়াশা, হিমশীতল বাতাস আর হাড় কাঁপানো কনকনে ঠান্ডায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় জনজীবন ভোগান্তি হয়ে পড়েছে।
ডিমলা উপজেলায় পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা, ফলে আগামী দিনে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। রাত থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টির ফোটার মত শিশির পড়ছে। দিনের বেলায়ও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে।রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ডিমলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে।
রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় দিনের চেয়ে রাতে অনেক বেশি ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। প্রচণ্ড শীতে কাজে বের হতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এবং ঠান্ডা বাতাসে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষদের। অন্যদিকে তীব্র শীতের কারণে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের হার বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলার হাসপাতালতে রোগীর চাপও বেড়েছে।
সকালে ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাতভর পড়া কুয়াশায় ভিজে গেছে পিচঢালা পথগুলো। গাছের পাতা, ফসলের খেত আর ঘাসের ওপর থেকে টপটপ করে পড়ছে শিশিরবিন্দু। ঘন কুয়াশার কারণে সকালে সড়কের যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কুয়াশার মধ্যেই গায়ে শীতের কাপড় জড়িয়ে কর্মজীবী মানুষ ছুটছে কাজের সন্ধানে। এক অটো ভ্যান চালক বলেন, সকালে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি কিন্তু শীতের কারণে মানুষ গাড়িতে উঠ চায় না। সকাল থেকে আজকে খুব শীত পড়েছে। এবং উপজেলার এক কৃষক বলেন, প্রচন্ড শীত আর কুয়াশা পড়েছে, কুয়াশার কারণে ধানের বীজতলা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়ছে। এবং শীতের দাপটে বেশ কাবু হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।
সরেজমিনে আরও ঘুরে দেখা যায়, দিনের অধিকাংশ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্য উত্তাপ ছড়াতে না পারায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের না হওয়ার কারণে রাস্তাঘাট, বাজার, শপিংমলে লোকজনের উপস্থিতি খুব কম। সরকারি-বেসরকারি অফিসে চাকরিজীবীরা আসলেও কাজকর্মে চলছে স্থবিরতা। জীবিকার দাগিতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বের হয়ে বিপাকে পড়েছেন।ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর সবুর বলেন, আজকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আগামী দিনে শীত ও কুয়াশার পরিমাণ আরও বাড়বে।