
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিকে ঘিরে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবদুস সাত্তার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ভবিষ্যতের একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রধান চালিকাশক্তি হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি-ভিত্তিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনী দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এজন্য তিনি নিয়মিত বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণামুখী শিক্ষার ওপর জোর দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বনবেস কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলামের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, গোলাম রব্বানী প্রধান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) মীর হাসান আল বান্না, জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) নীলফামারী এলাকা সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউসুফ মো. শাকিল প্রধান এবং ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে। তারা নবায়নযোগ্য শক্তি, স্মার্ট কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ও মডেল উপস্থাপন করে। এই প্রদর্শনীগুলোতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বাস্তবমুখী চিন্তাভাবনা ফুটে ওঠে। সমাপনী দিনে উপস্থাপকদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সেরা স্টল ও প্রকল্পগুলো। বিচারকগণ সৃজনশীলতা, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে বিজয়ীদের নির্বাচন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন যে, এই ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সচেতনতা, কৌতূহল এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি করে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন অব্যাহত রাখার উপর জোর দেওয়া হয়। আয়োজকরা বলেন যে, নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অনুষ্ঠান ক্রমাগত চলতে থাকলে, শিক্ষার্থীরা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।



