মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলায় সরকারি খাদ্য গুদামের খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা(ওসিএলএসডি)নবাবের বিরুদ্ধে আমন ধান ছাঁটাইয়ের নামে নিম্নমানের চাল নেয়াসহ বিভিন্ন ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।তাই তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের চাল গুদাম থেকে শেষ করতে অন্যান্য ডিলারের মত টিসিবির ডিলারদের দিয়েও এবার সেই চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবেই রয়েছেন নিরব।
জানা যায়,বৃহস্পতিবার(২১ মে)উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড় সংলগ্ন মেসার্স জিয়া ট্রেডার্স টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু করেন।তিনি ৩ হাজার ৫৪২ কার্ডধারীর বিপরীতে খাদ্য গুদাম থেকে চাল পান ১৭ হাজার ৭১০ কেজি।প্রত্যেক কার্ডধারী অন্যান্য পণ্যের সাথে ৫ কেজি করে চাল পাবেন।কিন্তু পণ্য বিক্রির প্রথম দিনেই কার্ডধারীদের মাঝে খাবার অযোগ্য ধুলো মাখা লালছে,পোকা ধরা,পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত বোরো চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় কার্ডধারী ইব্রাহীম,রমজান,সামছুল ইসলামসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন,যে চাল পেয়েছি তা খাওয়ার মত না।এ গুলো গরুকে খাওয়াতে হবে।এর আগেও কখনো ভালো কখনো এমন চাল পেয়েছিলাম।
এইসব পোকা ধরা,পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত মোটা চাল আপনারা কি খেতে পারবেন? আমরা বিচার দিব আসলে কাকে।গোপন সুত্রে জানা যায়,খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা(ওসিএলএসডি)নবাবের বিরুদ্ধে ধান ছাঁটাইয়ের নামে ঘুষের বিনিময়ে নিম্নমানের চাল খাদ্য গুদামে নেয়াসহ বিভিন্ন ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে খাদ্য গুদামে থাকা নিম্নমানের চাল গুলো বিভিন্ন ডিলারদের সরবারাহ করে দ্রুত শেষ করা হচ্ছে।যেন ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত কমিটি হলে তারা এসে নিম্মমানের চাল খাদ্য গুদামে দেখতে না পান। আর এই দুই কর্মকর্তার কাছে ডিলাররা জিম্মি হয়ে গেছেন।তাই তাদের বিরুদ্ধে উপকারভোগিরাতো দুরের কথা ডিলাররাও কোনো অভিযোগ করার সাহস পাননা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিসিবির একাধিক ডিলার জানান, নিম্নমানের চাল এর
আগেও পেয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্যারকে জানাতে গেলে তিনি উল্টো আমাদের ধমক দিয়ে বলেন,আপনারা এখানে এসেছেন কেনো।আপনাদের চাল যাদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় আপনারা তাদের অভিযোগ করবেন তারা আমাদের অভিযোগ করবেন।পরে কার্ডধারী উপকারভোগিদের আমরা বলি আপনারা চাল ছাড়া অন্যান্য পণ্য গুলো নিতে চাইলে নিতে পারবেন।
নিম্নমানের চালের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স জিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ডিলার জিয়ারুল বলেন,খাদ্য গুদাম থেকে যেই চাল পেয়েছি সেই চাল আমরা বিক্রি করছি।এখানে আমাদের কি করার আছে।
ডিমলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি এলএসডি) নবাব বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,
ইউএনও স্যার,ইউসিএফ(খাদ্য নিয়ন্ত্রক) স্যার,সাংবাদিক ও আমি সেখানে গিয়েছিলাম।এমন অভিযোগতো কেউ করলোনা। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন,টিসিবির পণ্য আজকে(বৃহস্পতিবার) বিক্রি শুরু হয়েছে তা আমার জানা ছিলনা।কোনো রকম খারাপ ও কম চাল গুদাম থেকে না নিতে বারবার ডিলারদের বলা হয়েছে।তারপরও আমি আগামী শনিবার টিসিবির ডিলারদের নিয়ে বসব।