মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ (পহেলা বৈশাখ) উদযাপনকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভাটি অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা পরিষদ হলরুমে।
এসময় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান। সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি রওশন কবীর, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আলী সরকার নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান,ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ডিমলা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ও গণমাধ্যম কর্মীরা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতেই বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং বাঙালি সংস্কৃতিতে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, বাংলা নববর্ষ কেবল একটি বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তাই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভায় জানানো হয়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ডিমলা উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে থাকবে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রামীণ খেলাধুলা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নববর্ষের দিন সকালেই উপজেলা চত্বরে সমবেত হয়ে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হবে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। শোভাযাত্রায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ী, বাঙ্গালী পোশাক মুখোশ, ব্যানার, ফেস্টুন এবং লোকজ সংস্কৃতির নানা উপকরণ স্থান পাবে।এছাড়াও দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি এবং নাট্য পরিবেশনা করবেন। এতে বাংলা সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিশেষ আয়োজন থাকবে, যাতে তারা ছোটবেলা থেকেই বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, নববর্ষ উদযাপন যেন সবার জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব ও করণীয় তুলে ধরেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে মানসম্মত অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান উৎসব। এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের উৎসব। আমরা চাই ডিমলায় এবারের নববর্ষ উদযাপন হোক আরও বর্ণাঢ্য, আনন্দমুখর এবং সুশৃঙ্খল। তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সভা শেষে নববর্ষ উদযাপনকে সফল করতে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি সার্বিক প্রস্তুতি, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে সামনে রেখে ডিমলা উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন, বিভিন্ন সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের নববর্ষ উদযাপন হবে।