মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলায় নির্মাণাধীন একটি বাড়িতে পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনের মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। পরে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলকে ক্লোজড করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অভিযুক্ত কনস্টেবল মো. রমজান আলীকে ডিমলা থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজ মোড় থেকে প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে মো. মোতাহার হোসেন সোহেলের মালিকানাধীন একটি নির্মাণাধীন বাড়ি রয়েছে। চারপাশে টিনের বেড়া দেওয়া বাড়িটিতে রাতের বেলায় বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ওই বাড়িতে কয়েকজনের সন্দেহজনক উপস্থিতি টের পান স্থানীয় কয়েকজন যুবক। পরে তারা দলবদ্ধ হয়ে বাড়িটির ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় অন্ধকারের মধ্যে চারজনকে মাদক সেবনের অবস্থায় দেখতে পান তারা।
স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে চারজন সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি করা হয়। এ সময় তাদের ধাওয়া করা হয়। পরে তাদের একজন ডিমলা থানায় কর্মরত কনস্টেবল মো. রমজান আলী (কনস্টেবল নম্বর-৪২০) বলে স্থানীয়রা জানতে পারেন।ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক পোস্ট ও মন্তব্য প্রকাশিত হলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন দেখা দেয় বিভিন্ন মহলে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং তাদের ভয়ভীতি দেখানোরও চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এলাকায় মাদক সেবনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে একজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতির অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি করেন। ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত কনস্টেবল মো. রমজান আলীকে ডিমলা থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলকে জেলা পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।