
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
একই প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিম হোসেন (১৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল-আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আল-আমিন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় আল-আমিনের বাবা নুর ইসলাম বাদী হয়ে নাসিমসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ নাসিম ধারালো অস্ত্র নিয়ে আল-আমিনের ওপর বারবার আঘাত হানেন। রক্তাক্ত অবস্থায় আল-আমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সহপাঠীরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আল-আমীনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিইউতে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর অস্ত্রাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনার চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। প্রায় এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং স্কুল ক্যাম্পাসে সহিংসতা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরানুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (ডোমার-ডিমলা সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী এবং ডিমলা থানার ওসি (চলতি দায়িত্ব) পরিতোষ চন্দ্র রায়।
ডিমলা থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. রাব্বি (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বাবুরহাট এলাকার হাফিজুল ইসলামের ছেলে। মূল আসামি নাসিমসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আল-আমিনের চিকিৎসায় সহায়তা হিসেবে তার বাবা নুর ইসলামের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান ও ডোমার-ডিমলা সার্কেলের এএসপি নিয়াজ মেহেদী। নৃশংস এ ঘটনার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।



