Tuesday, March 31, 2026
Tuesday, March 31, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনডিমলায় শিলার আঘাতে ভুট্টা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

ডিমলায় শিলার আঘাতে ভুট্টা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে, দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টি যেন তাণ্ডব চালিয়ে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

এক রাতের কয়েক ঘণ্টার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিস্তীর্ণ জনপদের ফসলি মাঠ পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঋণনির্ভর ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা যাদের অনেকেই এখন দুশ্চিন্তায়। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত টানা ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি, টেপাখড়িবাড়ি ও নাউতারা, ও ছাতনাাই ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শিলার আঘাতে ভুট্টা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে যায়। ধান, গম, মরিচ, পেঁয়াজ, তরমুজ ও শাকসবজির ক্ষেত হয়ে পড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা মাঠ এখন যেন ধূসর মৃত্যুভূমি। কৃষকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা সোনালি স্বপ্ন মুহূর্তেই মাটিতে মিশে গেছে। বিশেষ করে ভুট্টার ক্ষেত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেখানে মোচা আসার পর দানা বাঁধার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক হিসেবে অন্তত ৭৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ৫০ হেক্টর, গম ১০ হেক্টর, মরিচ ১২ হেক্টর এবং অন্যান্য ফসল ৩ হেক্টর জমিতে ক্ষতির শিকার হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

গয়াবাড়ী ইউনিয়নের এক কৃষক বলেন, এক রাতেই সব শেষ। ঋণ করে চাষ করেছি, এখন না আছে ফসল, না আছে বাঁচার ভরসা। বালাপাড়া গ্রামের কৃষক মিজু মিয়া বলেন, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছিলাম। মোচা এসেছে, কিন্তু দানা হওয়ার আগেই ঝড় সব শেষ করে দিল। আমি এখন পুরোপুরি সর্বস্বান্ত।”কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণোদনা, বীজ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।”এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে অনেকেই ঋণের বোঝায় পিষ্ট হয়ে পড়বেন এবং আগামী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: