মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সব নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে। বিধি-বিধান অমান্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করেই দলিল নিবন্ধন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং জাল-ভুয়া কাগজে দলিল সম্পাদনের অভিযোগে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় চলছে।
জানা গেছে, ডিমলার মূল সাব-রেজিস্ট্রার একেএম সুজাউদ্দিন প্রশিক্ষণে থাকায় নীলফামারী সদরের সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মাসুমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত মাত্র সাত কর্মদিবসে ১ হাজার ৩৬৪টি দলিল সম্পাদন করেন। সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয় গত ৯ জুনের ঘটনা নিয়ে; ওইদিন একদিনেই প্রায় ৩৯০টি দলিল সম্পাদন করা হয় এবং অভিযোগ রয়েছে গভীর রাত পর্যন্ত দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম চলে। , আরও অভিযোগ রয়েছে আগে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে আটকে থাকা সরকারি খাসজমি, জাল দলিল এবং ভুয়া মালিকানার বহু দলিলও এবার যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই দ্রুততার সঙ্গে পাস করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শতাধিক ভুক্তভোগী গত ৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। ইউএনও মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, "অনেক লোক অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং সাব-রেজিস্ট্রারকে যথাযথ যাচাইয়ের অনুরোধ করেছিলাম। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় আমাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, "অতিরিক্ত দলিল জমা হয়েছিল। কোনো দলিলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে দলিল বাতিলও করা হবে।" নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ভূমি জালিয়াতি রোধে বিতর্কিত দলিলগুলো পুনঃযাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।