মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোয় সম্ভাব্য ‘পুশ-ইন’ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, উপজেলার বালাপাড়া, পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বালাপাড়া বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি, পশ্চিম ছাতনাইয়ের ঠাকুরগঞ্জ ও কালীগঞ্জ বিওপি, পূর্ব ছাতনাইয়ের থানারহাট সীমান্ত ফাঁড়ি এবং টেপাখড়িবাড়ীর বার্নিরঘাট ও চরখড়িবাড়ী সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য পুশ-ইনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিমলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোয় উদ্বেগ দেখা দেয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন ও সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবি বা প্রশাসনকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে। বালাপাড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমার অধীনস্থ সীমান্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিকদের পুশ-ইনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সীমান্ত পাহারা জোরদার করা হয়েছে এবং বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রমের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সম্ভাব্য পুশ-ইন নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ডিমলা সীমান্তে কোনো ধরনের পুশ-ইনের ঘটনা না ঘটলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।