মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর যৌথ অভিযান। উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে একটি টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত ১৬ টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং ৪ টি শ্যালো মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। উক্ত টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনাকালে তিনটি লৌহদন্ড, বারটি প্লেন সিটের তৈরি লোহার ডালি এবং ৬টি বেলচাসহ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালসমূহ বার্ণিরঘাট বিওপির হেফাজতে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এ অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে অসংখ্য শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। উত্তোলিত পাথর ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদীতীরের বিভিন্ন এলাকায় এনে মজুত করা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও পানিপ্রবাহের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙনও তীব্র হচ্ছে। ঝুঁকিতে পড়ছে তিস্তাপাড়ের জনপদ। তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে তিস্তার তলদেশের স্বাভাবিক গঠন বদলে যাচ্ছে। পানির গতিপথেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নদীভাঙনের নতুন ঝুঁকি। ইতোমধ্যে ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় তিস্তায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাথর উত্তোলনের একটি চক্র রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই ফের শুরু হয় পাথর উত্তোলন। তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, শুধু নৌকা ও বোমা মেশিন ধ্বংস করলেই অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ হবে না। এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি ও পাথর মজুত-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
অবৈধ পাথর উত্তোলনের অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান। সার্বিক সহযোগিতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার, জেলা পুলিশ, ডিমলা থানা-পুলিশ এবং রংপুর ৫১ বিজিবির অধিনায়ক জুলকারনাইন। সীমান্ত ফাঁড়ির ক্যাম্প কমান্ডারসহ যৌথ বাহিনীর অসংখ্য সদস্য এ অভিযানে অংশ নেয়।ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ডিমলা এর এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে ও অবৈধ পাথর উত্তোলনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।