মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় কমেছে তিস্তা নদীর পানি। আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে, গতকাল রোববার উজানের ঢলে রাত ৮টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গতকাল রোববার (২৮ জুন) রাত ৮টায় উজানের ঢলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তারপর থেকে পানি কমতে শুরু করলে আজ সোমবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমা বরাবর পানি প্রবাহ ছিল। সকাল ৯টায় আরও কমে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার, বেলা ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার এবং বেলা ৩টায় ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই পয়েন্টে নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। তবে দ্রুত পানি কমায় এসব গ্রাম থেকে পানি নেমে গেছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন,পানি কমে যাওয়ায় এই ইউনিয়নের কোনো পরিবার এখন আর পানিবন্দি নেই।তবে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছ গ্রামে কিছুটা ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকিতে পড়েছে গ্রামটি।দ্রুত কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে সেখানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিতে পারে। সে ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্যারের সুপারিশসহ দরখাস্ত দিয়েছি। টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন,পানি কমার সাথে সাথে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমার ইউনিয়নে এখন একটি পরিবারও পানিবন্দি নেই।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন,‘উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তারপর থেকে পানি কমতে শুরু করলে আজ সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।