বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত তিন নেতা এখন ভারতের নয়াদিল্লিতে একই নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে রয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসেছেন তার সুরক্ষিত অরাস সেনাট গাড়ি নিয়ে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রয়েছে বিশেষায়িত চীনা নিরাপত্তা দল ও নিজস্ব বহর। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রয়েছেন দেশটির স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তাবলয়ে।
দ্য স্টেটসম্যান জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এই তিন নেতার নয়াদিল্লিতে অবস্থান রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন ও জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। বিদেশি নেতাদের নিজস্ব নিরাপত্তা দলকে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হচ্ছে, যাতে নিরাপত্তার কোনো স্তরে ফাঁক না থাকে।
এই সম্মেলন ঘিরে রাজধানীতে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মণ্ডপম, ভিভিআইপি হোটেল এবং নেতাদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে নেওয়া হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায়। সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ডের (এনএসজি) ১০০ জনেরও বেশি কমান্ডো দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে পুতিন, শি ও মোদির নিরাপত্তা আসলে শুরু হয়েছে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তাবলয় থেকে।
পুতিনের ‘চলন্ত দুর্গ’ অরাস সেনাট
ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সবচেয়ে দৃশ্যমান জিনিসটি হলো তার বিশাল কালো লিমুজিন, রুশ প্রেসিডেন্টকে বহনকারী গাড়ি অরাস সেনাট। রাশিয়ার অরাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফরে প্রেসিডেন্টের যাতায়াতে এই গাড়ি ব্যবহার করা হয়।
গাড়িটির কাঠামো শক্তিশালী করে তৈরি করা হয়েছে। এর সাঁজোয়া ও সাধারণ, দুই সংস্করণই একইসঙ্গে উন্নয়ন করা হয়েছিল বলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। এ কারণে প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত সংস্করণটিকে প্রায়ই ‘চাকার ওপর দুর্গ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
নিচতলা থেকে ছাদ পর্যন্ত শির নিরাপত্তাবলয়
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও নিজের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নয়াদিল্লিতে এসেছেন।
শির সফরের আগেই চীনা নিরাপত্তাকর্মীরা দিল্লিতে পৌঁছে তার জন্য নির্ধারিত হোটেলে অবস্থান নেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যে তলায় থাকবেন, সেখান থেকে নিচতলা ও ছাদ পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে শির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। তার সফর ঘিরে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায়ও পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
মোদির নিরাপত্তায় ‘জিরো এরর’ নীতি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কেন্দ্রে রয়েছে স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি।
ভারতের আইনে এসপিজির দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে। ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, সড়ক, রেল, বিমান, নৌযান কিংবা হেঁটে চলার সময় কাছ থেকে নিরাপত্তা দেওয়াও এর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তাবলয়, বিচ্ছিন্নকরণ কর্ডন, নিরাপদ এলাকা, মঞ্চের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ।