মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় প্রস্তুতিমূলক ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডিমলা উপজেলায় ৭৮টি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার ৮ (অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক রইছুল আলম চৌধুরী, এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য অধ্যাপক সেতারা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম লিটন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম সরকার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী কাজী রুকুজ্জামান বকুল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি উৎপল কান্তি সিং ও সাধারণ সম্পাদক জ্যোতি রায়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা ও জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, এবার ডিমলা উপজেলায় ৭৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আইপি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং রাত ১২টার পর স্বেচ্ছাসেবক রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নারী ও পুরুষের পৃথক বহির্গমন ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। মণ্ডপগুলোতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিজিবি ও এসআরবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ট্যাগ কর্মকর্তার মাধ্যমে মণ্ডপগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারিতে থাকবে মনিটরিং সেল। তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর করতে ইতিমধ্যে ‘দুর্গাপূজা পরিচালনা টিম-২০২৬’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। পূজা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা, অভিযোগ বা অসুবিধার তথ্য সেখানে জানানো যাবে। তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মণ্ডপের নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের চলাচলের বিষয়েও আয়োজকদের সতর্ক থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম জানান, এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর এ বরাদ্দ ছিল ৫০০ কেজি। সভায় বক্তারা বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। পূজার সময়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় বক্তারা।