মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর ব্যাপক নির্বাচনী মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহড়ার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়। ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ মহড়া পরিচালিত হয়। সদর ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার থেকে শুরু করে নাউতারা ইউনিয়নের জোরজোগা ও গোদার বাজার, গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি, খালিশা ইউনিয়নের ডালিয়া ও নতুন বাজার এবং ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চাপানি হাটসহ গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় যৌথ বাহিনীর টহল ও মহড়া দেওয়া হয়। এ সময় সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র, জনসমাগমস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিদর্শন করা হয়।মহড়া চলাকালে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানান। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়। এ মহড়া ও টহলের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, ডিমলা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন রফিক, সহকারী পুলিশ সুপার (ডোমার সার্কেল) নিয়াজ মেহেদী, ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার এবং বিজিবির নায়েক সুবেদার দিলীপ কুমারসহ বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।মহড়া চলাকালে ডিমলা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন রফিক বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কেউ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য থেকে সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবার সহযোগিতায় আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
স্থানীয় বাবুরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, “এভাবে সেনা-পুলিশ একসঙ্গে টহল দেওয়ায় আমরা অনেকটাই নিরাপদ বোধ করছি। নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝামেলা হবে না বলেই আশা করছি। ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম বলেন, “আগে নির্বাচন এলেই ভয় কাজ করত। এখন প্রশাসনের তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিতে পারব। উল্লেখ্য, এ মহড়ায় উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই এ ধরনের টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।