
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার ( ২০ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি) নীলফামারী জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে বলেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু দুঃখজনক সত্য যে নীলফামারী জেলা ডিমলা উপজেলাবাসীর জন্য আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। কারণ ডিমলার সীমান্ত ঘেঁষে তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তলনের স্বর্গরাজ্য পরিণত হয়েছে। পাথর উত্তলন বন্ধ করতে গিয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য, গ্রাম্য পুলিশ বাহিনী ও এলাকার পরিবেশ রক্ষার সচেতন মহলসহ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পবিত্র রমজান মাস সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয়। সেই সাথে এই মাসের সাধনা আমাদের আত্মসংযমী হতে এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। পবিত্র মাস জুড়ে তিস্তা নদী ধ্বংসকারীরা আত্মসংযমী না হয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে। তিস্তা নদী থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করে পরিবেশকে মারাত্মক হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। যা আমাদের ডিমলা উপজেলাবাসীর জন্য অশনিসংকেত। কারণ তিস্তা নদীর নাব্যতা হ্রাস পাচ্ছে। ভারত সরকারের শাসনে শাসিত তিস্তা নদী বর্ষা মৌসুমে তীব্র ভাঙনে অনেকেই সর্বহারা হয়েছে এবং ব্যাপক পরিমাণ কৃষি ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং কৃষি জমির উর্বরতা কমিয়েছে। ড্রেজার বা বোমা মেশিন ব্যবহার করে নদী গর্ভ থেকে বালি ও পাথর তুলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বসতি ও আবাদি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাব পৃথিবীর আদি সভ্যতা ও মনুষ্যবসতি নদীতীরেই। তবে একটু মানব সভ্যতার ইতিহাসে ইরাকের ইউফ্রেতিস-তাইগ্রিস নদের সুমেরীয় সভ্যতা, সিন্ধু নদের মোহেনজোদারো ও হরপ্পা সভ্যতা, চীনের হোয়াংহো ও ইয়াংসি নদী সভ্যতা এবং মিসরীয়দের নীল নদের সভ্যতা। আমাদের ভারতবর্ষে বৃটিশ বেনিয়ারা নদীপথে দিয়ে যাতায়াতের মাধ্যমে সম্পদ লুট করে নিয়ে যেত আবার ফিরে এসে বসতি স্থাপন করত। পশ্চিম- উত্তর-পূর্ব তিনদিক থেকেই অসংখ্য নদনদী আমাদের দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। আর এসব নদনদীর তীরে বাঙালি জাতির বসবাস। আমাদের দেশের মানুষ নদীর পানি দিয়ে আঁশ পাট,ধানসহ প্রায় সব ধরনের ফসল উৎপাদন করে জীবন নির্বাহ করে। আমিষ জাতীয় খাদ্যের অভাব পূরণের জন্য নদীতে সুস্বাদু হরেক রকমের মাছ এবং মাছের রাজা ইলিশ পাওয়া যায়। যার কারণে আমাদের মাছে ভাতে বাঙালি বলা হয়। আমাদের বাঙালিদের ঘরে ধর্মীয় বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উৎসব যেন মলিন হয়ে আছে যারা পাথর উত্তলনে বাঁধা দিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। তাই আসুন পবিত্র ঈদুল ফিতরে নামাজে দোয়া করি তিস্তা নদী রক্ষা করি। প্রাণ প্রকৃতি, পরিবেশ রক্ষা করে পবিত্র ঈদুল ফিতরে শপথ করি সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত করি। মনের পশুত্বকে ধ্বংস করি।



