মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নীলফামারীর ডিমলার জাহাঙ্গীর আলমকে মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩)।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে নেমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ: পরীক্ষা স্থগিত: গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি পদের জন্য পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
যেভাবে ফাঁস হয় প্রশ্নপত্র চক্রের যোগসূত্র: তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের আরেক সদস্য নূর মোহাম্মদকে ১৫ অক্টোবর সাভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নূর মোহাম্মদের মোবাইল ফোনের চ্যাট ও তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, পরীক্ষা শুরুর দিন সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের পরিষ্কার ছবি পাঠিয়েছিলেন। নূর মোহাম্মদ সেই প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে পুনরায় জাহাঙ্গীরকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্য ও তাদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ও অভিযান: নূর মোহাম্মদের দেওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাহাঙ্গীর এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর।
শিক্ষক মরহুম আজিজের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ডিমলা সদর ইউনিয়নের শিব মন্দির এলাকার বাসিন্দা তিনি। এই চক্রের সাথে জড়িত মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ জনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী।
টাকা লেনদেন: এই চক্রটি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা চুক্তি করে প্রশ্নপত্র এবং উত্তর সরবরাহ করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।