সুজন আলী, রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এক বৃদ্ধ বাবা ও মাকে নির্মমভাবে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদেরই আপন ছেলে ও পুত্রবধূদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ বাবা মো. তসির উদ্দিন (৬৫) বাদী হয়ে শনিবার ২০ জুন দুপুরে রাণীশংকৈল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ঝুলঝাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ তসির উদ্দিনের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই তার বড় ছেলে মো. মকবুল (৪৫), পুত্রবধূ মোছা. আমেনা খাতুন (৩৫) এবং আরেক পুত্রবধূ মোছা. আনু (২৮) কারণে-অকারণে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্তরা প্রায়শই বৃদ্ধ বাবা ও তার স্ত্রীকে মারধর করতেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিতেন।
ভুক্তভোগী বাবা তসির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন:
"ওরা আমাদের শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। শুধু তাই নয়, লোকজনের সামনে হুমকি দিয়ে বলেছে যে, সুযোগ পেলে খাবারে বিষ মিশিয়ে আমাদের মেরে ফেলবে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বৃদ্ধ তসির উদ্দিন ও তার স্ত্রীর ওপর চড়াও হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পুত্রবধূ আনুর হুকুমে অন্য আসামিরা বৃদ্ধা মাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে পুত্রবধূ আনু বৃদ্ধা শাশুড়ির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং অপর পুত্রবধূ আমেনা খাতুন শাশুড়ির চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে। এ সময় তসির উদ্দিন তার স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়।
পরে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশী মোছা. হাসেনা বেগমসহ অন্য প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তারা এই বৃদ্ধ দম্পতিকে খাবারে বিষ মিশিয়ে কিংবা অন্য উপায়ে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে এই বৃদ্ধ দম্পতি নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যাযাবরের মতো আশ্রয় নিয়েছেন।
এই বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, বৃদ্ধ বাবার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।