সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার বীরাঙ্গনা মোজেফা খাতুনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মহারাজা পাঁচপীর মাদ্রাসা মাঠে তাঁর মরদেহে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় রাষ্ট্র ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানউল্লাহ আল বারী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত থেকে বীরাঙ্গনা মোজেফা খাতুনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি তিন ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন মোজেফা খাতুন। দীর্ঘ ৪৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০১৮ সালে সরকার তাঁকে বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করে।
জীবনের শেষভাগে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বীরাঙ্গনা। প্রায় এক মাস আগে তাঁর শরীরে ক্যানসার ও কিডনির রোগ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতনের শিকার হয়েও দীর্ঘ জীবন বয়ে বেড়ানো এই বীরাঙ্গনার বিদায়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।