মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
ভারতের হিমালয় পাদদেশঘেঁষা উত্তর সীমান্তবর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় গত কয়েকদিন ধরে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে শীতে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষ, সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল, খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শীতের প্রকোপে কমে গেছে দিনমজুর ও শ্রমজীবীদের দৈনিক আয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ডিমলা এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের তীব্রতায় বহু শ্রমজীবী মানুষকে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। এমন দুর্দিনে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি নিজেই রাতের আঁধার, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা ও দুর্গম এলকা পেরিয়ে কম্বল নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে। তাঁর পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রওশন কবির। শুধু কম্বল বিতরণ নয়, শীতকাতর মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রশাসনের মানবিক মুখ তুলে ধরছেন এই কর্মকর্তা। গরিব, দুস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে শীত নিবারণের পাশাপাশি তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
এ ছাড়া ডিমল উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এতিম খানা ও মাদ্রাসার হাফেজদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি বাজারে ঘুমন্ত অসহায় ছিন্নমূল ভিক্ষুকদেরও গায়ে কম্বল গায়ে মুড়িয়ে দিতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, এমন মানবিক উদ্যোগ শীতার্ত মানুষের জন্য শুধু সহায়তাই নয়, এক ধরনের সাহস ও ভরসার বার্তা দিচ্ছে। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন কষ্টে না থাকে এটাই আমাদের লক্ষ্য। সমাজের অসহায় ও শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শীতকাল জুড়ে এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।