
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬) উপলক্ষে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা থেকে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্প, রেজিস্টারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী উপকরণ সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা সদর থেকে ডিমলা উপজেলার মোট ৮৪টি ভোটকেন্দ্রে ট্রাক্টরে এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়। নীলফামারী-১ সংসদীয় আসনটি ডোমার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে আটজন প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোটের পরিবেশ, অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ বেশি। অনেক ভোটারের মতে, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬০ হাজার ২৭১ জন। এর মধ্যে ডোমার উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ৬৩১ জন এবং ডিমলা উপজেলায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪০ জন। মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৮৩ জন, নারী ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি (খেজুরগাছ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তছলিম উদ্দিন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ)-এর সিরাজুল ইসলাম (টেলিফোন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল জলিল (হাতপাখা), বাসদ (মার্কসবাদী)-এর মো. রফিকুল ইসলাম (কাঁচি), জেপির মো. মখদুম আজম মাশরাফী (বাইসাইকেল) এবং ন্যাপের জেবেল রহমান গানি (গাভী)। নিরাপত্তা বিবেচনায় উপজেলার ১০টি ভোটকেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় এখন ভোটের অপেক্ষায় ডিমলা উপজেলা বাসী।সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানান, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ যেন শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং একটি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিকভাবে কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য বডি ওয়ার্ন ক্যামেরাসহ দায়িত্ব পালন করবেন। জাল ভোট প্রদান, একাধিক ভোট দেওয়ার চেষ্টা কিংবা কেন্দ্রের ভেতরে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন সশস্ত্র আনসার ও ১০ জন লাঠিয়াল আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। উপজেলায় তিন প্লাটুন বিজিবি, পুলিশের ১০টি মোবাইল টিম, পুলিশের ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, আনসারের ২টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাবের একটি বিশেষ টিম, ৯৭ জন গ্রাম পুলিশ এবং উপজেলার বিভিন্ন বিওপি ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত ৬০ জন বিজিবি সদস্য বিরতিহীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।



