মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা সেচ প্রকল্প লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা ও নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদী তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেছেন বাংলাদেশ সরকারের তিন মন্ত্রী।
১৯জুন শুক্রবার তিনমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে নীলফামারী-১ ডোমার-ডিমলা আসনের গণমানুষের নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের পক্ষ থেকে ডিমলা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে তিন মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আরও উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন সদস্য নীলফামারী জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটি, ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম লিটন ও স্বেচ্ছাসেবক আহ্বায়ক সবুজ ও ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আশিকুর রহমান আকিক, ছাত্রদলের ছাত্রনেতা সাগর, এবং ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি প্রিন্স লিমন ও ছাত্রদলের নেতা রাসেলসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মী এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নাগরিকগন অংশগ্রহণ করেন। তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট নিরসনসহ উত্তরাঞ্চলের সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রীরা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা ও হাতীবান্ধা এবং ডিমলা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও তিস্তা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা সভা করে তিন মন্ত্রী। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিস্তা পাড়ের ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন তিন মন্ত্রী। তিস্তা তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথকে আরও বেগবান করবে। একই সঙ্গে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা আশা করছেন। স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে ডিমলা ও হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার এর সাথে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।