সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কটূক্তিকারী বিধান রায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাণীশংকৈল শাখার আয়োজনে, বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার নেকমরদ গরুহাটি মাঠ থেকে এ সমাবেশ শুরু হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নেকমরদ বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নেকমরদ চৌরাস্তা মোড়ে শেষ হয়।
এসময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “বিশ্বনবীর অপমান, সইবে নারে মুসলমান”, “রাসুলের দুশমনেরা, হুশিয়ার সাবধান”, “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নেকমরদ চৌরাস্তা মোড়ে হেফাজতে ইসলামের রাণীশংকৈল উপজেলা আমির মাওলানা শামসুদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর মাওলানা শাহী এমদাদুল হক, সেক্রেটারি মুফতি শরিফুল ইসলাম, পীরগঞ্জ উপজেলা হেফাজত ইসলামের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান,গণঅধিকার পরিষদের এমপি প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা প্রেস মিডিয়া আহবায়ক, শাহাজালাল জুয়েল প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা শাহী এমদাদুল হক বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। তার বিরুদ্ধে কটূক্তি মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর আঘাত। আমরা বিধান রায়ের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা শামসুদ্দিন কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১। গ্রেফতারকৃত বিধান রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে অতি দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়।
২। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যারা প্ররোচনা বা সহায়তা করেছে, তাদেরও চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর কনটেন্ট ছড়ানো বন্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে এবং মসজিদ, মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। দীর্ঘদিনেও হিরা রায় ও মনি রায়কে গ্রেফতার না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
৫। হেফাজতে ইসলামের সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উল্লেখ করে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা সমর্থন করা হবে না। কেউ যদি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার তার নিজের ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ওপর বর্তাবে বলেও জানানো হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে , রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও পীরগঞ্জের হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা অংশ নেন।