মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীতে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বর, কাশি ও শরীরে র্যাশ নিয়ে অসুস্থ হওয়া এ শিশুদের নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত (আরএমও) ডা. দেবাশীষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে রয়েছে, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া গ্রামের আয়েশা আক্তারের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে মিজান মিয়া, সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের পঞ্চপুকুর গ্রামের লিজু বেগমের দুই বছরের ছেলে জিহাদ বাবু।
অপরদিকে, পৌর এলাকার দেবীরডাঙ্গা কাঞ্চনপাড়া মহল্লার এক বছরের শিশু রাইয়ান, বাবলি আক্তারের দুই বছরের ছেলে আব্দুল জোবায়ের, আড়াই বছরের মাইশা ও দুই বছরের সম্রাট ইসলাম ভর্তি রয়েছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে এসব শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সংক্রমণের আশঙ্কায় তাদের আলাদা করে আইসোলেশন বিভাগে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে তারা সত্যিই হামে আক্রান্ত কি না।
শিশু জিহাদের মা লিজু বেগম বলেন, প্রথম দিকে জ্বর, পাতলা পায়খানা আর সর্দি-কাশি ছিল। এ কারণে আগাম হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু হাসপাতালে আনার পর বিকালের দিকে হঠাৎ করে শরীরে র্যাশ ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। জিজ্ঞেস করলে তখনই ডাক্তাররা হামের আশঙ্কার কথা জানান। নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিষেশজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের নানা রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ‘হাম’ একটি মারাত্মক ব্যাধি। ৬ শিশুকে হাসপাতালের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা হামে আক্রান্ত। তবে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠোনো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে বলা যাবে হাম কি না।
এ বিষয়ে ডা. দেবাশীষ বলেন, বর্তমানে শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে। এদিকে, হাসপাতালের উপপরিচালক (তত্বাবধায়ক) ডা. আব্দুল্লাহেল মাফি জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। তিনি আরও বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সবাইকে (গার্ডিয়ান) সতর্ক থাকতে হবে। হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি শিশুদের জ্বর, কাশি বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।