সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি :
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এখন জমে উঠেছে কোরবানির পশুর খামারগুলো। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় হাজারো গরু প্রস্তুত করা হলেও সবার নজর কেড়েছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়—‘কালাবাবু’। প্রায় ৩০ মণ ওজনের এই গরুটি নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু একনজর দেখতে।
উপজেলার নেকমরদ এলাকার খামারি মনোয়ার হোসেন দীর্ঘ ৫ বছর ধরে পরম যত্নে লালন-পালন করেছেন এই ‘কালাবাবু’কে। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির শারীরিক গঠন রীতিমতো বিস্ময়কর। ওজন: প্রায় ৩০ মণ।দৈর্ঘ্যপ্রায় ৮ ফুট।উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি।
বিশাল দেহের কারণে খামারে আসা অনেকেই প্রথম দেখায় থমকে দাঁড়াচ্ছেন। বালিয়াডাঙ্গী থেকে আসা দর্শনার্থী খোরশেদ আলম বলেন, "এত বড় গরু আগে কখনও কাছ থেকে দেখিনি। শুধু দেখার জন্যই এসেছি। সত্যিই অবাক করার মতো।"
খামারি মনোয়ার হোসেন জানান, কালাবাবুকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন বিশাল অংকের টাকা ব্যয় করতে হয়। তার খাদ্যতালিকায় রয়েছে সবুজ ঘাস, খৈল, ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়াসহ প্রায় ১০০ কেজি বাড়তি খাবার।
দিনে ২ থেকে ৩ বার গোসল এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
মনোয়ার হোসেন বলেন, "কালাবাবুর যত্ন নিতে আলাদা ব্যবস্থা করতে হয়। পরিবারের সদস্যের মতো করেই আমরা এর যত্ন নিই। আমার খামারে ১২ মণ ওজনের 'সাদা বাবু' নামের আরও একটি বড় গরু থাকলেও কালাবাবুই হবে এবারের হাটের মূল আকর্ষণ। তিনি আরো বলেন, কেজি দরে বিক্রি করলে গরুটির দাম প্রায় ৯ লাখ টাকা হতে পারে। এত বড় গরু পালন সহজ নয়; খাবার ও পরিচর্যায় প্রচুর শ্রম দিতে হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রূপম চন্দ্র মহন্ত জানান, গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের ফলে দেশে এখন বড় আকৃতির গরু উৎপাদন বাড়ছে। রাণীশংকৈলের খামারিরাও বাণিজ্যিকভাবে এমন বড় গরু প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, হাটে ওঠার আগেই ‘কালাবাবু’ এখন রাণীশংকৈলজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।