সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় রাতের আঁধারে হায়না-সদৃশ একটি রহস্যময় বন্যপ্রাণীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশু ছাড়াও গৃহপালিত প্রাণী রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, প্রাণীটি হায়না-জাতীয় হলেও এখনো তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আকস্মিক এ ঘটনায় উপজেলার সহোদর, দোশিয়া ও বুড়িপুকুর গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।সোমবার (৩ আগস্ট) রাত প্রায় ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের খাবার শেষে কেউ বাড়ির উঠানে, কেউ আবার স্থানীয় চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ একটি বন্যপ্রাণী মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণীটি এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে ছুটে গিয়ে পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষকে আক্রমণ করে। পরে কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে শিশু ও গৃহপালিত ছাগলের ওপরও হামলা চালায়।
হামলায় আহতদের মধ্যে বুড়িপুকুর গ্রামের ময়রমা (৭৫), জমেলা (৭০), আরিফ, মশিউর ও মকবুলের নাম জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আহতের প্রকৃত সংখ্যা অন্তত ১০ জন।বুড়িপুকুর গ্রামের বাসিন্দা আল মামুন বলেন, “প্রাণীটি ছিল অত্যন্ত হিংস্র। মানুষ দেখামাত্রই তেড়ে এসে কামড়ে দিচ্ছিল। পরে গ্রামবাসী একযোগে ধাওয়া করলে সেটি দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।”
স্থানীয়দের অনেকে প্রাণীটিকে হায়না বলে ধারণা করলেও কেউ কেউ মনে করছেন, এটি হায়না-সদৃশ অন্য কোনো বন্যপ্রাণী হতে পারে। একই প্রাণী বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে হামলা চালিয়েছে বলেও তাদের ধারণা।ঘটনার পর তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। স্থানীয়রা বন বিভাগ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রাণীটিকে দ্রুত শনাক্ত ও আটক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রাণীটি আবারও মানুষের ওপর হামলা চালাতে পারে।আহতদের দ্রুত রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, “আহতদের ক্ষতস্থান পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হায়না-জাতীয় কোনো বন্যপ্রাণীর কামড় হতে পারে। আক্রান্তদের প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিনের পাশাপাশি অ্যান্টি-র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিনও প্রয়োগ করা হয়েছে।”রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফিরোজ আলম জানান, আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে সবাইকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।