
বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় তাৎক্ষনিকভাবে এক দোয়া মাহফিল আজ ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বাদ জোহর সিলেট মহানগরের খাসদবীর সৈয়দ মুগনীতে অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিল পূর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রাত্তন কেন্দ্রীয় নেতা, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা মাহবুব চৌধুরী বলেছেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি এখন অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন মানুষের সাহসের উৎস। এ কারণেই তাঁকে বারবার ফ্যাসিবাদী সরকারের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ২৫ মাসের কারাবাসে বিপন্ন হয় খালেদা জিয়ার জীবন। খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেন শেখ হাসিনা। কারাগারে উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ার দায় শেখ হাসিনার সবচেয়ে বেশি। বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে অন্যায় ও অবিচার করেছেন, তা শুধু আমাদের দেশ নয়, গোটা বিশ্বে বিরল। সেসব কিছুর মোকাবিলা তিনি করেছেন স্বভাবসুলভ ঔদার্য, মহানুভবতা ও আত্মমর্যাদার সাথে। সেগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বর্জন করে গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরিতে তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল অন্যতম নির্ধারক। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন এদেশের রাজনৈতিক অভিভাবক। ১/১১ সরকারের সময়ে তাঁর অনমনীয় ভূমিকা দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এরশাদ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক অনমনীয় সাহসের প্রতীক হয়ে তিনি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের কাছে আপসহীন নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে দেশে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সারা দেশবাসীর মতো আমরাও আজ শোকে মুহ্যমান।
মাহফিল পরিচালনা করেন খাসদবীর জামে মসজিদের সহকারী ইমাম মাওলানা নজরুল ইসলাম। আরো ছিলেন সিলেট মহানগরের স্হানীয় ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি আনহার আহমদ, স্হানীয় মুরব্বি লায়েকুজ্জামান, মিসবাউল করিম চৌধুরী, ময়না মিয়া, আমির আহমদ আমবই, আব্দুলাহ প্রমূখ।



