
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টা ঘরে তুলার জন্য কৃষকরা এখন ব্যস্ত।
উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ভুট্টার সমারোহ এখন যেন এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। উপজেলার মাঠে-মাঠে এখন চলছে ভুট্টা সংগ্রহ, শুকানো ও বাজারজাতকরণের ব্যস্ততা, কৃষকদের ভাষায়, এ যেন সোনালি সময়।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে মাঠে কাজ করলেও ক্লান্তি নেই তাদের চোখে মুখে। বরং ভালো ফলনের আশায় আর লাভের প্রত্যাশাই তাদের প্রাণবন্ত ঘরে তুলেছে। কেউ ভুট্টা কাটছেন, কেউ রোদে শুকাচ্ছেন, কেউ ভুট্টা মেশিন দিয়ে মাড়াই করছেন, আবার কেউ বাজারে বিক্রির জন্য বাজার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম খড়িবাড়ি গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, গত দুই বছরে তুলনায় এবছর অনেক ভুট্টার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে একদিকে সারের সংকট অন্যদিকে আগাম শিলাবৃষ্টি ও ঝড় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ভুট্টা আবাদ করেছি চার বিঘা জমিতে মহান আল্লাহ আমাদের ভুট্টার আবাদ যা দিয়েছে ভালো দিয়েছে।
পশ্চিম খড়িবাড়ির গ্রামের আরেক কৃষক শাহীন ইসলাম বলেন, আমরা ভুট্টা আবাদ করেছি দশ বিঘার মত আমাদের অধিকাংশ জমিতেই ভুট্টার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যাদের ভুট্টা শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কৃষি বিভাগ থেকে তাদের নাম তালিকা করে সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করে তাহলে কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে। উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা ভুট্টা আবাদ করেছি চার বিঘা জমিতে আমাদের ভুট্টা তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি আশা করছি আমাদের ভুট্টা ভালোই হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ডিমলা উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ১০ থেকে ১১ মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলায় এবছরে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এছাড়া ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অনেক জমিতে এখনও ভুট্টা পানিতে ডুবে আছে ও মাটিতে লুটে পড়ে আছে তারপরও সার্বিক উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ এবং কৃষকরা।



