Saturday, May 23, 2026
Saturday, May 23, 2026
Homeসারা বাংলা"ক্ষুদে হৃদয়ে হজ্জের ছোঁয়া" রাণীশংকৈলে আল-হিকমাহ্ স্কুলে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।

“ক্ষুদে হৃদয়ে হজ্জের ছোঁয়া” রাণীশংকৈলে আল-হিকমাহ্ স্কুলে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।

সুজন আলী, রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

শিশুর কোমল হৃদয়ে ইসলামের সৌন্দর্য, ইবাদতের মহিমা ও পবিত্র হজ্জের তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য, ব্যতিক্রমধর্মী ও হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন। পবিত্র জিলহজ্জ মাসকে কেন্দ্র করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে হজ্জ পালনের বাস্তবধর্মী প্রাক্টিক্যাল প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে উপজেলার দক্ষিণ সন্ধ্যারই ফায়ার সার্ভিস রোডে অবস্থিত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “আল-হিকমাহ এনলাইটেন্ড স্কুল”।

শনিবার (২৩ মে) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন এক ক্ষুদ্র মক্কা নগরীতে রূপ নেয়। প্রতীকী কাবা শরীফ, মাকামে ইব্রাহিম ও সাফা-মারওয়ার আদলে সাজানো হয় পুরো পরিবেশ। সাদা পোশাকে সজ্জিত
কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তালবিয়া ধবনিতে মুখরিত করে তোলে চারপাশ। শিশুদের নিষ্পাপ কণ্ঠে “লাববাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনি উপস্থিত সবার হৃদয়ে সৃষ্টি করে এক আবেগঘন ধর্মীয় অনুভূতি। আয়োজনে শিক্ষার্থীদের তাওয়াফ, সাঈ, হজ্জের নিয়ত, ইহরাম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হাতে-কলমে শেখানো হয়। বাস্তবধর্মী পরিবেশে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে শিশুদের উৎসাহ, আনন্দ ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক অভিভাবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ছোটবেলা থেকেই এমন ধর্মীয় অনুশীলন শিশুদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও ইসলামী শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে তুলবে। বিদ্যালয়ের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা চাই শিশুরা শুধু বই পড়ে নয়, ইসলামের বিধানগুলো বাস্তবভাবেও শিখুক ও
অনুভব করুক। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় চেতনা, নৈতিক শিক্ষা ও ইসলামের প্রতি ভালোবাসা তাদের হৃদয়ে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। হজ্জ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই শিশুদের মাঝে এর মৌলিক ধারণা আনন্দঘন পরিবেশে তুলে ধরতে এই আয়োজন। “তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানে আরবি ও ধর্মীয় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে “আল-হিকমাহ স্কুল অ্যান্ড হিফজুল কোরআন মাদ্রাসা” নামে পৃথক একটি শাখা পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা নূরানী, নাজেরা ও হিফজ শিক্ষার মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের সুশীতল ছায়ায় বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনটি উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকে এটিকে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার এক অনুকরণীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বিশ্বাস, এই ধরনের বাস্তবধর্মী শিক্ষা শিশুদের হৃদয়ে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: