
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার শিশুবন এলাকায় জমি দখল, ১০ লাখ টাকা দাবি, হুমকি ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে শাহিদুল তালুকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের পক্ষে এক নারী লিখিত বক্তব্য দেন।
লিখিত বক্তব্যে ওই নারী অভিযোগ করেন, তাঁদের বসতবাড়ির একটি অংশ শাহিদুল তালুকদার দখলে রেখেছেন। জমি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গত ২৪ এপ্রিল শাহিদুল তাঁর সৎ ভাই জাফরকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, ১৭ মে গ্রামের বাড়িতে গেলে তাঁর মেজো ছেলের স্ত্রী ও ছোট নাতিদের মারধর করা হয়। পরে এ ঘটনায় জাফর বাদী হয়ে তাঁর মেজো ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁর ছেলে ৩৫ দিন কারাগারে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে তাঁদের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। টাকা না দেওয়ায় মামলা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২০ জুন তাঁর মেজো ছেলের স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হলে জাফরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং দখল করা জমি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়। তবে পরে আবার জমি ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তিনি বলেন, জুলাই মাসে পাচুড়িয়া নিউ মার্কেটে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিসে তাঁদের জমির সঙ্গে থাকা একটি পুকুর বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে পুকুরটি ভরাট করা হলেও শাহিদুল জমি ছেড়ে দেননি এবং বালুর খরচও দেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ বিষয়ে ২৯ জুলাই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে সদর সার্কেল কার্যালয়ে শুনানি ও স্থানীয়ভাবে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন ওই নারী।
এর ধারাবাহিকতায় ২২ সেপ্টেম্বর পাচুড়িয়া নিউ মার্কেটের নিচে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শাহিদুল তাঁদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা, জমিতে মাটি কাটার খরচ, গাছের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গরু-ছাগল রাখার ঘর সরানোর জন্য আরও এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব দাবি নিয়ে সালিসে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁর অসুস্থ স্বামীকে বুকে ধাক্কা দিয়ে আহত করা হয়। পরে শাহিদুল ও জাফর পুলিশকে ফোন করে তাঁদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। তবে ঘটনাস্থলে কোনো মারামারি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ওই নারী দাবি করেন, পরে শাহিদুল ও জাফর নিজেদের আহত দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। এতে তাঁদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।
জাফরের শ্রবণ সমস্যা নিয়েও অভিযোগ করেন ওই নারী। তাঁর দাবি, জাফরের আগে থেকেই কানে শোনার সমস্যা রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁদের কাছে প্রত্যয়নপত্র রয়েছে। অথচ পরে তাঁর মেজো ছেলের বিরুদ্ধে জাফরের কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি জমি বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে। একই সঙ্গে পাচুড়িয়া নিউ মার্কেটে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রকৃত বিষয় অনুসন্ধানের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে শাহিদুল তালুকদার ও জাফরের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।



