
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
ঢাকার টাঙ্গাইলে মেডিকেল কোচিং পড়ুয়া রাকিব হোসেন (১৭) নামে এক যুবককে হত্যার পর তার মরদেহ নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে ঢাকায় ফিরে রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে।
৬ (অক্টোবর) মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার একটি তদন্তকারী দল ডিমলার বালাপাড়ায় এসে মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটিচাপা দেওয়া স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে রাকিব ও মামুনের পরিচয় হয়। পরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে এর জেরে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মামুন রাকিবের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি ডিমলার বালাপাড়া নিয়ে আসেন। সেখানে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যান তিনি। পরে ঢাকায় গিয়ে রাকিবের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে কিছু টাকা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় রাকিবের পরিবার থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তদন্তে নামেন। পরে একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলায় মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরে ঢাকার একটি দল ডিমলায় এসে তার দেখানো স্থান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এদিকে আরও অভিযোগ রয়েছে, রাকিব জীবিত আছেন এমন ধারণা দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা হয়েছিল। ওই ভিডিও ব্যবহার করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ নেওয়া হয় কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আছে। ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। গ্রেপ্তার মামুনকে ঢাকার তদন্তকারী দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ।


