Saturday, May 16, 2026
Saturday, May 16, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনডিমলায় ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণের জমি অধিগ্রহণের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাননি নূরনাহার বেগম।

ডিমলায় ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণের জমি অধিগ্রহণের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাননি নূরনাহার বেগম।

মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

নীলফামারীর ডিমলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করা হলেও দীর্ঘ ১৮ বছরেও জমির মালিকরা পাননি ন্যায্য ক্ষতিপূরণ। উল্টো নিজের ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকার আশায় সরকারি অফিসে ঘুরতে ঘুরতে দিশাহারা ভুক্তভোগী নূরনাহার বেগম।

প্রাপ্ত নথিপত্র ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট মৌজার ১৭৭নং খতিয়ানের ৫৬৫নং দাগের ৩৩ শতাংশ জমি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে (এল এ কেস নং-০৬/২০০৭-০৮) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। নূরনাহার বেগমের অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি শতাংশ জমির মূল্য মাত্র ৪ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ছিল বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। তিনি এই কম মূল্যের টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে ও ন্যায্যমূল্যের দাবি করলে শুরু হয় তার ভোগান্তি।

ভুক্তভোগী নূরনাহার বেগম জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান না করেই প্রভাব খাটিয়ে তাকে তার পৈতৃক জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ শেষে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বরাবর একাধিকবার আবেদন করেও কোনো সুরাহা পাননি। নূরনাহার বেগমের দাবি, জমি হারিয়ে আমি আজ নিঃস্ব। গত ১৮ বছর ধরে শুধু ক্ষতিপূরণের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। বর্তমানে এই জমির বাজারমূল্য শতাংশপ্রতি কয়েক লাখ টাকা হলেও তিনি আজ অবধি এক টাকাও ক্ষতিপূরণ পাননি। তিনি জানান, জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে ও মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, বিলম্বিত ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারমূল্যে অর্থ প্রদানের বিধান থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা থমকে আছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বর্তমানে তারা চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জমির বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও বিগত বছরগুলোর ক্ষতিপূরণবাবদ পাওনা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা। অন্যথায় পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি উন্নয়নের প্রয়োজনে জমি নেওয়া হলেও একজন সাধারণ নাগরিককে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রাখাটা চরম অন্যায়। তাই তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানকে কল করা হলে তিনি রিসিভ না করে কল কেটে দেন। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও উত্তর মেলেনি।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: