Friday, July 3, 2026
Friday, July 3, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনমাঠ থেকে গবাদিপশু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের।

মাঠ থেকে গবাদিপশু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের।

সুজন আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় মাঠ থেকে গবাদিপশু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন এক কৃষক। আকস্মিক এ ঘটনায় চার সন্তানের জনক একরামুল হক (৪৭)-এর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পুরো জওগাঁও গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের জওগাঁও গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত একরামুল হক ওই গ্রামের মৃত আবু বক্করের ছেলে। জীবিকার তাগিদে কৃষিকাজই ছিল তার একমাত্র অবলম্বন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু-ছাগল আনতে যান একরামুল হক। এ সময় হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায় এবং শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি। গবাদিপশু নিয়ে বাড়ি ফেরার আগেই একটি শক্তিশালী বজ্রপাত তার ওপর আঘাত হানে। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের তীব্রতায় তার কোমরে থাকা মোবাইল ফোনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। এতে তার পরনের গেঞ্জি পুড়ে যায় এবং পিঠের একাংশ দগ্ধ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নন্দুয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একরামুল হক অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সজ্জন মানুষ ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

একরামুল হকের মৃত্যুতে স্ত্রী, চার সন্তান ও স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: