
মো: জাহিদুল ইসলাম
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একতা বাজার-জিঞ্জিরপাড়া সড়কের পূর্ব খড়িবাড়ী জিঞ্জিরপাড়া ব্রিজসংলগ্ন সড়কে শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় ব্রিজের দুই পাশে অবৈধভাবে বসতবাড়ি নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্রিজের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকরা উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সময়মতো হাট-বাজারে নিতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে একতা বাজার-জিঞ্জিরপাড়া সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, অ্যাম্বুলেন্স চলাচল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় যাতায়াতও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক এলাকায় শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শত শত পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ সংকটের কারণে টেপাখড়িবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব খড়িবাড়ী মেহেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একতা বাজার বাবুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য মো. সাহেব আলী, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, ডিমলা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান আকিক, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মিজানুর রহমান (মিজান), জামায়াতে ইসলামীর টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জিয়াউর রহমান (জিয়া), যুগ্ম আহ্বায়ক মিঠু মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী।
বক্তারা বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা একটি পরিবারের সমস্যা নয়; বরং পুরো এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি বিদ্যমান থাকলেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে ব্রিজের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, পানি চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “মানববন্ধনের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি জায়গা বা পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা স্থাপনা থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।



