
২০২৯ সালের মাঝামাঝি ঢাকা-সিলেট ৬ লেনের কাজ শেষ হবে।
* ১৪ দিনে মিলবে ব্যবসার অনুমোদন
* দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একরে নতুন বিসিক
* অপরাধ দমনে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা
* সিলেট-চট্টগ্রাম দ্রুতগতির কার্গো ট্রেন চালুর উদ্যোগ, হবে এআই ট্রেনিং সেন্টার’
দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব
কমার্স গঠনের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর।
আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে এবং আগামী ১২ মাসের মধ্যেই এই মহাসড়কটির নতুন অবয়ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ’-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং এ অঞ্চলের শিল্প উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার এটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরানো সড়কটিকে নতুন ৪ লেনের হাইওয়েতে রূপান্তর করা হবে।
রেল যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ইতিমধ্যে ডুয়েলগেজ লাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দরকষাকষি শেষে দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে সকালে সিলেটে থেকে ট্রেনে চেপে ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সন্ধ্যায়ই সিলেটে ফিরে আসা সম্ভব হবে। একই সাথে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের বিদ্যমান গ্যাপ দূর করে একই মানের উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনের মাধ্যমে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি ও মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলার পুরো প্রক্রিয়া আগের ৩৫৫ দিনের বদলে মাত্র ১৪ কর্মদিবসে (২ সপ্তাহ) নামিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে। পাশাপাশি সিলেটের সিএমএসএমই শিল্পকে বেগবান করতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর একটি নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, চলতি বছরই যার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।
নগরীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কোনো স্থান হবে না। সিলেট শহরকে নিরাপদ রাখতে সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ পরিচালনায় পুরো শহরকে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি রোধে আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর কথা জানান তিনি। এছাড়া সিলেটের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষ করে তুলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘এআই ট্রেনিং সেন্টার’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) গড়ে তোলার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মনিম মল্লিক মুন্না এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাবেল এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সিলেট ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য সচিব রেজাউল করিম নাচন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি পাবেল।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা আলহাজ্ব আতাউর রহমান, জহিরুল কবির চৌধুরী শিরু, এহতেশামুল হক চৌধুরী শিরু, হাজী মো. রইছ আলী, আতাউল্লাহ সাকের, মো. জহির হোসেন তুহিন, ফুয়াদ বিন রশীদ, মোহাম্মদ আনিছ, ছাউল্লাহ ফাহিম, সহ সভাপতি আব্দুল আজিজ, মো. আব্দুর রহমান দুদু, মো. আমির হোসেন, হুমায়ুন আহমেদ মাসুক, মো. আনোয়ার হোসেন, কিবরিয়া হোসেন নিঝুম, মো. আলী আকিক, মাছুম ইফতেখার রসুল শিহাব, আবুল কালাম, খালেদ আহমদ, ওলিউর রহমান, সাহেদ আহমদ, শাহ জাকের আহমদ, আতিকুর রেজা চৌধুরী, মদন মোহন কর্মকার, সহ সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, আমিনুল ইসলাম বেলাল, মঞ্জুর আহমদ, সৈয়দ জাহিদ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, মো. রূপন খান, জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম সাকির, সুলতান আহমদ খান, মো. শাহজাহান মিয়া, শহীদুল হক, আখতার চৌধুরী রুবেল, মো. ফরহাদুজ্জামান, সুয়েব আহমদ অভি, মো. নুরুজ্জামান সিদ্দিকী, শাহ ইমরান আহমদ, মীর মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ কাদির, মো. সাহিদুল হক সুহেল, রিয়াজ আহমদ, রাসেল আলী, জাকারিয়া আহমদ, আবু সাইদ তায়েফ, নিহার কুমার রায়, মো. মারুফ, মো. মতিয়ার রহমান, আলী হায়দার মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আহমদ সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুর রহমান, মো. সাবুল মিয়া, হাসান কবির চৌধুরী, কাওসার আহমদ রবি, রেজাউল হক রেজু, সৈয়দ রাজন আহমদ, মো. আব্দুল কাদির, মো. নাফিস জুবায়ের চৌধুরী, সুহিন আহমদ, মো. শফিক নুর, মো. শাহজাহান, সাহেদ বক্স, জিয়াউর রহমান খান চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক তাহমিদুল হাসান জাবেদ, সহ অর্থ সম্পাদক রিয়াদ রহমান, সাহিত্য সম্পাদক মামুনুর রশীদ, সহ সাহিত্য ইমদাদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আহমেদ সৌম নওশাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক মারুফ আহমদ, সহ ক্রীড়া সম্পাদক আবু খালেদ চৌধুরী, সহ ক্রীড়া সাইদুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামাল আহমদ, সহ সাংষ্কৃতিক সম্পাদক আহসান হাবিব, মিহির রঞ্জন দাস, সমাজ কল্যাণ মনোয়ার হোসেন মুন্না, দেলোয়ার হোসেন জয়, সহ আইন সম্পাদক হাজী শাহজাহান, মো. জাকির হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রঞ্জিত দেবনাথ ময়না, সহ তথ্য মাছুম আল মাহদি, যোগাযোগ সম্পাদক হুমায়ুন কবির লিটন, সহ যোগাযোগ সম্পাদক আব্দুল কাহির খছুরু, আপ্যায়ন সম্পাদক ইমাম উদ্দিন কামাল, সহ আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আছমাউল হুসনা খান, ফেরদৌসী আব্দাল, চৌধুরী তাহমিনা নুর, ফারজানা আব্দাল খান, সদস্য আব্দুল বাছিত, মো. তাজুল ইসলাম, শেখ মো. জুনেদ আহমদ, মোহাম্মদ মাহবুব, মো. ওয়াজ্জদ খান সুয়েব, আবু ইকবাল খান, মো. মাহি উদ্দিন, বাহার চৌধুরী, আব্দুল খালিক খান রহিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ উদ্দিন এবং গীতা পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক রতন দে।
২য় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচিত একটি প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব কমার্স গঠন করা হউক। যেভাবে আজকে মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ দেখিয়ে দিয়েছে, তারা সিলেট চেম্বার অব কমার্স থেকে কোনো অংশে কম নয়। মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ যদি পারে, তাহলে সিলেট চেম্বার অব কমার্স কেন পারবে না?
সিলেট একটি রাজনৈতিক সম্প্রীতির নগরী। সিলেট একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির নগরী। কাজেই এখানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। কোন কোন সেক্টরে কীভাবে সহযোগিতা করলে আপনাদের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তা দেখা প্রয়োজন। এখানে অসময়ে মেলা হয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আমি মনে করি এটাও একটি শৃঙ্খলার ভেতরে নিয়ে আসা উচিত। এভাবে না হলে ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে উৎসাহ হারাবে।
২য় অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শ্যামা হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদ ইশতিয়াজ আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান চৌধুরী দুলু, সিলেট চেম্বারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুস সামাদ তুহেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ। এছাড়াও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিলেটের মহানগরীর অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন মার্কেটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



