Monday, June 22, 2026
Monday, June 22, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনডিমলায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ।

ডিমলায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ।

জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে উপজেলা বাসী। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও বিল প্রদান, মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের অসঙ্গতি এবং নষ্ট মিটারের নামে মাসের পর মাস অর্থ আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হাজারো গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের ডিমলা সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।

(২১জুন) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েক হাজার গ্রাহক ডিমলা পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা অফিস ঘেরাও করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুয়া বিল বাতিলের দাবি জানান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও কয়েকগুণ বেশি ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও নিয়মিত বিল পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া নষ্ট মিটার পরিবর্তন না করেই অনুমাননির্ভর বিল আদায় করা হচ্ছে।

ডিমলা সদর ইউনিয়নের নটাবাড়ি গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমান জানান, তার সেচ সংযোগ গত দুই মাস ধরে বিচ্ছিন্ন থাকলেও তাকে ২ হাজার ৯৬৬ টাকার বিল পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

একই ইউনিয়নের মমিনুর রহমান অভিযোগ করেন, তার প্রকৃত ব্যবহারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি বিল করা হয়েছে। নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের রশিদুল ইসলাম বলেন, “আমার মিটারের রিডিং ৮৩৭, অথচ বিলে দেখানো হয়েছে ১ হাজার ১৯২ ইউনিট। অতিরিক্ত এই ইউনিট কোথা থেকে এলো, তা বুঝতে পারছি না।”

রামডাঙ্গা গ্রামের নুর ইসলাম জানান, ছয় মাস আগে তার মিটার নষ্ট হয়ে যায়। নতুন মিটারের জন্য আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ সংযোগ কার্যত বন্ধ থাকার পরও নিয়মিত বিল পাঠানো হচ্ছে। সর্বশেষ বিলেও ৬০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে।

গ্রাহকদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ব্যাপক আকারে সংঘটিত একটি অনিয়ম। এর ফলে হাজারো পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তারা অভিযোগ করেন, অফিসে গিয়ে প্রতিকার চাইলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায় না।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ডিমলা পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল ম্যানেজার (এজিএম) মো. মাসুদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, “ঈদের দীর্ঘ ছুটির কারণে মিটার রিডাররা যথাসময়ে রিডিং সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে বিল প্রস্তুতের সময় কিছু ভুল হয়েছে।” তিনি দ্রুত বিল সংশোধন ও সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।

তবে কয়েক হাজার গ্রাহকের বিলে একযোগে ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, এটি শুধুই প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং ব্যবস্থাপনার গুরুতর ব্যর্থতার ফল।

ডিমলা সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ৭৭ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজারের বেশি আবাসিক গ্রাহক। ফলে বিলিং ব্যবস্থার সামান্য ত্রুটিও বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোর্ডের এলাকা পরিচালক প্রভাষক সাজেদুল ইসলাম লিটন বর্তমান এজিএম মাসুদ আলম ও বিলিং কর্মকর্তা নাসিমা বেগমকে দায়ী করে বলেন, দায়িত্বে অবহেলা ও তদারকির অভাবে গ্রাহকরা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনারেল ম্যানেজারকে জানানো হয়েছে।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মনোয়ার মোরশেদ বলেন, “অনিয়ম হয়ে থাকলে বিল সংশোধন করা হবে।” তবে স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক বিল কীভাবে সংশোধন করা হবে—এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা মিটার বিকল থাকা অবস্থায় যদি বিল আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

এদিকে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত সংশোধিত বিল প্রদান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: