
সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগষ্ট) পবিত্র জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপত্যে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কার্যক্রমের শুভ সূচনা ঘটে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে দুপুর ১২টার পর থেকেই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নতুন মসজিদে সমবেত হতে শুরু করেন। দেখতে দেখতেই খুতবার আগেই মসজিদের ভেতরের মূল কক্ষ ছাড়িয়ে চারপাশের আঙিনা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে হাজারো মুসল্লি একসাথে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপত্যের স্মৃতি ধরে রাখতে অনেককে ছবি ও সেলফি তুলতেও দেখা যায়। জুমার নামাজে ইমামতি করেন মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মাহবুব আলম। খুতবার আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা আল ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ, জামায়াতের নায়েবে আমীর মিজানুর রহমান মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান আলী সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মডেল মসজিদ কেবল নামাজ আদায়ের একটি স্থান নয়; বরং এটি ইসলামী শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা চর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশের এক অনন্য প্রাণকেন্দ্র। এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও শৃঙ্খলার বার্তা ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম আর বকুল মজুমদার, সাবেক মেয়র আলমগীর সরকার, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আকতারুল ইসলাম আক্তার, পৌর যুবদলের সভাপতি ফারুক হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার ফরহাদুজ্জামান ফরহাদ, মডেল কেয়ার আমিনুল ইসলামসহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা।
রাণীশংকৈল পৌর শহরের হ্যালি প্যাড মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক অজুখানা এবং প্রায় এক হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের অত্যাধুনিক সুব্যবস্থা রয়েছে। কমপ্লেক্সটিতে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, লাইব্রেরি, হজ্জযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইমামদের প্রশিক্ষণ সুবিধা, হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং ইসলামী বই বিক্রয় কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তাছাড়া দূর-দূরান্তের দর্শনার্থী ও গবেষকদের জন্য অতিথিশালা, মৃতদেহের গোসলের নির্ধারিত স্থান, প্রশাসনিক দাপ্তরিক কক্ষ ও সুপরিসর গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। সর্বাধুনিক সুবিধা সংবলিত এই মডেল মসজিদ চালু হওয়ায় রাণীশংকৈলবাসীর দীর্ঘদিনের
প্রত্যাশা পূরণ হলো।


