
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় দুই সহোদরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন নবাবের বিরুদ্ধে। হামলার পর ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দুই পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন রাতে ঘোষপুর ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফারুক হোসেনের সাথে দেখা করতে যাওয়ার পথে তাঁর কর্মী রাকিবুল ইসলাম রকির (৩১) মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পরে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় রকিকে মারধরেরও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই মামলা প্রত্যাহারের জন্য রাকিবকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গত ৩ আগস্ট চরঘোষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিবের দুই ভাই ইউসুফ বিশ্বাস (৪০) ও আ. রউফ বিশ্বাসের (২৬) বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন নবাব ও যুবলীগ নেতা রঞ্জুর নেতৃত্বে একদল লোক বাড়িতে গিয়ে ঘরের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরের বিভিন্ন মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। হামলার পর ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ইউসুফ ও রউফ স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় মামলা করতে পারেননি বলেও দাবি তাঁদের। ইউসুফের স্ত্রী সাজেদা বলেন, “দুর্বৃত্তরা আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই ভেঙে ফেলেছে। তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। আমি এর বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন নবাবের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ইউনিয়ন বোর্ড অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানও ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তার কার্যালয়ে যেতে বলেন।


