Sunday, October 18, 2026
Sunday, October 18, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনরাণীশংকৈলে একের পর এক রহস্যজনক আগুন, আতঙ্কে রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী।

রাণীশংকৈলে একের পর এক রহস্যজনক আগুন, আতঙ্কে রাত জেগে পাহারায় গ্রামবাসী।

সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় একের পর এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাতোর ইউনিয়নের মালিভিটা গ্রামে। গত কয়েক দিনে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গোয়ালঘর, খড়ের গাদা, গাছপালা ও ধানক্ষেতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে গোয়ালঘর ও খড়িঘরসহ কৃষকের মূল্যবান সম্পদ। ধারাবাহিক এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দুর্বৃত্তদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা। আতঙ্কে এখন রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা থেকে মালিভিটা গ্রামে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাইদের আটটি ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ছাড়া বসতবাড়ির পাশে থাকা ১৬টি গাছ এবং প্রায় ১৫ শতক জমির ধানক্ষেত পুড়ে যায়। এতে দুই ভাইয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই বাড়িতেই ছিলাম হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে বাড়ির বাইরের খড়ের গাদা ও গোয়ালঘরে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। চোখের সামনেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমার ও ভাইদের মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই এলাকায় আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এদিন সন্ধ্যায় নুরুল হক নামে এক বাসিন্দার খড়ের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। এতে তার প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। একই দিন রাত ১০ টার দিকে সেকেন্দার আলীর খড়ের ঘর ও গোয়ালঘরসহ তিনটি ঘর এবং চারটি গাছ পুড়ে যায়। এতে তার আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ধরন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সেকেন্দার আলী বলেন, রাতে ঘর থেকে বের হয়ে আগুনের ভয়াবহতা দেখে অবাক হয়ে যাই। আমাদের ধারণা, দ্রুত আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা বিশেষ কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করতে পারে। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও থামেনি আতঙ্ক। গত শনিবার রাতেও আলহাজ্ব শামসুল হকের বাড়ির উঠানে থাকা একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় গ্রামজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অনেক সময় আগুনে পুড়ে সবকিছু ছাই হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের বাড়িঘর ও সম্পদ রক্ষায় রাত জেগে গ্রাম পাহারার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গ্রামবাসী। তবে দিনভর কৃষিকাজ করে রাতভর পাহারা দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কোনো চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজুল ইসলামের ভাই রফিকুল ইসলাম রাণীশংকৈল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, রাতোর ইউনিয়নের মালিভিটা গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: