
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় ৭৮টি পূজামণ্ডপে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
ডিমলা উপজেলার দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান, রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১বিজিবি)- এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আরিফ উল ইসলাম লিটন, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাবু উৎপলকান্তি সিং এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জ্যোতি চন্দ্র রায়, এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এদিকে পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন এবং ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি হাতে নেয় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ, বিজিবি, আনসার ভিডিপি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করেন।
এবার ডিমলা উপজেলার ৭৮টি পূজামণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়। পরিদর্শনকালে তাঁরা পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তাঁরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ও জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই মিলে উৎসব উদযাপন করতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে, প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি, সিঁদুর খেলা ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায় ভক্তরা। উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেই বিদায়ের সুরে নেমে আসে আনন্দের ছায়া।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মায়ের বিদায়লগ্নে কারও চোখে জল, কারও কণ্ঠে প্রার্থনা—‘মা, আবার এসো আগামী বছর।’ ঢাকের শেষ বাদ্য আর ভক্তদের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ডিমলা উপজেলার দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় ভক্তরা পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনায় করে প্রার্থনা করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় ডিমলায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ পায়।
পরে এ বিষয়ে উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী এর মানুষেরা উপজেলা প্রশাসনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন নিরাপত্তা দিকে আগের তুলনায় এ বছর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালে ছিল।


