Saturday, November 7, 2026
Saturday, November 7, 2026
Homeসারা বাংলাবুড়ি তিস্তা খনন সমস্যা সমাধানে সরেজমিনে পরিদর্শন।

বুড়ি তিস্তা খনন সমস্যা সমাধানে সরেজমিনে পরিদর্শন।

মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বুড়ি তিস্তা নদী ও জলাধার খনন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিনিধিদল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীসহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম লিটন, ডিমলা সদর ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ডিমলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তারাসহ ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

নদী পুনর্খনন এবং সেচ প্রকল্পের জলাধার নির্মাণকে কেন্দ্র করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের তীব্র উত্তেজনা ও আইনি জটিলতা নিরসনে এই বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।

পরিদর্শন ও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মূল বিরোধ ও জটিলতার কারণ

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা: স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড উপযুক্ত ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তাদের শত বছরের পৈতৃক ও তিন ফসলি জমিতে খননকাজ চালাতে চাচ্ছে।

উচ্ছেদ ও জীবিকা হারানোর শঙ্কা: কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অসংখ্য পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে এবং হাজার হাজার মানুষ তাদের চাষাবাদের জমি হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়বে।

প্রাকৃতিক গতিপথ বনাম রিজার্ভার: আন্দোলনকারীদের মতে, নদী খনন করা হলে তা নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ অনুযায়ী হওয়া উচিত, কৃত্রিমভাবে ফসলি জমি নষ্ট করে রিজার্ভার বা জলাধার নির্মাণ করা যাবে না।

২. পূর্ববর্তী উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পটভূমি

প্রতিরোধ ও ক্যাম্প ভাঙচুর: পূর্বে খননকাজের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে পাউবো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এক্সকেভেটর ও আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মামলা ও আইনি জটিলতা: প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ২০০৯ সাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসী।

৩. সরেজমিনে পরিদর্শন ও সমাধানের উদ্যোগ

বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা: সাম্প্রতিক সরেজমিনে পরিদর্শনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও স্থানীয় জনসংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকার বর্তমান অবস্থা এবং কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিগুলো সশরীরে ঘুরে দেখেন।

যৌথ আলোচনার তাগিদ: পরিদর্শনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা জানান, জোরপূর্বক বা সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং জনগণের অংশীদারিত্ব ও মতামতের ভিত্তিতে সমস্যার যৌক্তিক সমাধান করা হবে।

মামলা প্রত্যাহার ও সমন্বয়: স্থানীয় জনগণের কল্যাণ বিবেচনা করে নদীকে কেন্দ্র করে চলমান মামলাগুলো তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের পুনর্বাসন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে কীভাবে সেচ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়, তার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

পরিদর্শনের লক্ষ্য: চলমান স্থবিরতা কাটাতে এবং মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি ও কাজের গুণগত মান যাচাই করতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

৪. সমাধানের সম্ভাব্য পথ ও বর্তমান পরিস্থিতি

জনগণের অংশীদারিত্ব: পানি উন্নয়ন বোর্ড স্পষ্ট করেছে যে, জনগণের সম্পদ, তিন ফসলি জমি এবং পরিবেশের বড় কোনো ক্ষতি না করে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।

যৌথ সংলাপ: যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে স্থানীয় কৃষক, সামাজিক সংগঠন এবং জনপ্রতিনিধিদের সাথে যৌথভাবে বসে টেকসই সমাধান খোঁজার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

গতিপথ বজায় রাখার দাবি: আন্দোলনরত স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি জানিয়েছেন, নদী খনন যেন কৃষিজমি নষ্ট না করে নদীর নিজস্ব প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক গতিপথ অনুসরণ করেই করা হয়।

নদী খনন ও সেচ সুবিধা চালুর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি স্থানীয় কৃষি ও জীবিকার জন্য আশীর্বাদ হলেও, কৃষকদের অধিকার রক্ষা করে কীভাবে এর কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়—সেটিই এখন প্রশাসনের পরিদর্শনের মূল বিবেচ্য বিষয়।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য