Friday, April 17, 2026
Friday, April 17, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনতেল ছাড়াই ১২০ কি.মি পথ মাত্র ৫ টাকায়! সাড়া ফেলেছে রতনের 'ব্যাটারি...

তেল ছাড়াই ১২০ কি.মি পথ মাত্র ৫ টাকায়! সাড়া ফেলেছে রতনের ‘ব্যাটারি বাইক’।

সুজন আলী, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) :

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা। দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন আর সীমাহীন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র। যখন এক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের মেকানিক রতন মহন্ত দেখাচ্ছেন ভিন্ন এক আশার আলো।
কোনো পেট্রোল বা মবিল ছাড়াই মাত্র ৫-৬ টাকার বিদ্যুৎ খরচে তার মোটরসাইকেল ছুটছে ১২০। কিলোমিটার! তেলের যন্ত্রণায় জন্ম নিল উদ্ভাবন রাণীশংকৈল উপজেলা শহরের মহলবাড়ী এলাকার সুরেন মহন্তের ছেলে রতন মহন্ত। পেশায় অটোভ্যান মেকানিক রতন আগে ছিলেন সাইকেল মিস্ত্রি। বর্তমানে পৌর এলাকার কলেজ রোডে তার একটি যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে।
২০১৯ সালে শখ করে একটি পুরাতন ১০০ সিসির সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন তিনি। কিন্তু কেনার পর থেকেই শুরু হয় বিপত্তি। যান্ত্রিক ত্রুটি আর তেলের উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। স্থানীয় মেকানিকরা বারবার চেষ্টা করেও বাইকটি পুরোপুরি সচল করতে পারছিলেন না। তেলের খরচ আর মেরামতের বিরক্তি থেকে মুক্তি পেতে রতন এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঠিক করেন— বাইকের ইঞ্জিনই ফেলে দেবেন! সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু করেন রতন। বাইকের ইঞ্জিন সরিয়ে সেখানে স্থাপন করেন ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি এবং একটি অটোরিকশার শক্তিশালী মোটর। ব্যাটারির সাথে মোটরের সংযোগ ঘটিয়ে তিনি বাইকটিকে রূপান্তরিত করেন বৈদ্যুতিক যানে।
রতন মহন্ত জানান, শুরুতে যখন ব্যাটারি লাগিয়ে বাইক চালানো শুরু করি, তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছে। ঠাট্টা-তামাশা করে বলেছে— এটা নাকি খেলনা! কিন্তু আমি দমে যাইনি। এখন তেলের অভাবে যখন মানুষ পাম্পে লাইন দিচ্ছে, তখন তারাই আমাকে বাহবা দিচ্ছে।”
রতনের এই উদ্ভাবনে সাশ্রয়ের হিসাবটা অবিশ্বাস্য। যেখানে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তেল চালিত বাইকে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়, সেখানে রতনের খরচ হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকার বিদ্যুৎ। পাম্পে গিয়ে তেল কেনার ভোগান্তি নেই, নেই মবিল পরিবর্তনের বাড়তি ঝামেলা। রতনের প্রতিবেশী আবু হানিফ জানান, রতনের এই বাইক বর্তমান সংকটকালীন সময়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “তেল কিনতে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুদ্ধ করতে হয়। অথচ রতন অনায়াসে চলাফেরা করছেন। খরচও নামমাত্র। আমি নিজেও এখন আমার বাইকটিতে ব্যাটারি লাগানোর কথা ভাবছি।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: