
জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
নীলফামারীর ডিমলা থানায় দায়ের হওয়া একটি পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামিকে বগুড়া থেকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার শিহিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। আটককৃত আসামির নাম মো. শুভ ইসলাম (২০)। তিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার উত্তর তিতপাড়া (সরদারপাড়া) এলাকার মো. সোলেমান ইসলামের ছেলে।
র্যাব-১৩ জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং গোপনে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে শুভর বিরুদ্ধে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর ভাই পূর্বে শুভ ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলার পর থেকেই আসামিরা ভুক্তভোগীর গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মে দুটি ভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীর মেজো বোনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে গত ২০ মে ডিমলা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে আসামিদের আটক করা জন্য র্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর নীলফামারী ক্যাম্প এবং র্যাব-১২-এর বগুড়া ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল বগুড়ার সোনাতলায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি শুভ ইসলামকে আটক করতে সক্ষম হয় তারা। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শুভকে সংশ্লিষ্ট ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সমাজের বুক থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ দমনে র্যাবের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।



