Monday, May 25, 2026
Monday, May 25, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদন‎চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারে   চা শ্রমিক ফেডারেশনের আলোচনা সভা ও লাল...

‎চা শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারে   চা শ্রমিক ফেডারেশনের আলোচনা সভা ও লাল পতাকা মিছিল।

‎মৌলভীবাজার জেলা:গোবিন্দ মল্লিক।

‎চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ, ভূমি অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, মর্যাদাপূর্ণ মানবিক জীবন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে চা শ্রমিক ফেডারেশনের ৭ দফা দাবিতে সংগঠনের পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রেখে ২৪ মে রবিবার দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী এবং সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্কপ এর শীর্ষ নেতা আহসান হাবীব বুলবুল। আরও বক্তব্য রাখেন বাসদ মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মঈনুর রহমান মগনু, শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সদস্য আবু জাফর, চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা উজ্জ্বল রায়, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি কাজল রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কিরণ শুক্ল বৈদ্য, সদস্য ময়না রাজভর, হামিদিয়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক বুলু উড়াং, করিমপুর বাগানের বিমল বাগতী, শ্রীমতি কায়স্ত, মায়া কর-সহ বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকরা।
‎প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শ্রমিক ফ্রন্ট সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব বুলবুল বলেন, চা বাগান প্রতিষ্ঠা করতে বৃটিশ বাগান মালিকরা প্রতারণা করে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দালালদের মাধ্যমে স্থায়ী চুক্তিতে বাগান প্রতিষ্ঠায় নিয়ে আসে। তারা দালালদের দিয়ে বলিয়ে ছিলো যেখানে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে সেখানে দারিদ্রতা নেই, সেখানে গাছে নাড়া দিলে এবং পাতা ছিঁড়লে টাকা পড়ে। প্রতারণা করে যখন নিয়ে আসলো তারপর শ্রমিকদের জীবনে নেমে আসলো এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি। গহীন জঙ্গলকে পরিষ্কার করে বাগান বানাতে গিয়ে সাপের কামড়ে এবং বিভিন্ন রোগবালাইয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। বাগানের চা গাছের পাতা শ্রমিকরা তুললো পাতাটা টাকা হয়ে মালিকের পকেটে গিয়ে জমা হয়। আর শ্রমিকরা অনাহারে-রোগে ভোগে মারা যাচ্ছে কিন্তু মালিকরা শ্রমিকদের প্রতি নুন্যতম সহানুভূতিও দেখায়নি এবং প্রাপ্য মজুরিও দেয় নি। সেখান থেকে ১৯২১ সালের ২০ মে মুল্লুকে ফিরতে শ্রমিকরা রেললাইন ধরে চাঁদপুর জাহাজঘাটে পৌঁছলে বৃটিশ মালিকদের নির্দেশে গোর্খাবাহিনী গুলি করে প্রায় ৩০ হাজার লোককে হত্যা করে। তখন জাহাজ শ্রমিক ও রেল শ্রমিকরাও চা শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করেন। আমরা চা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে শুরু থেকে এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে চা শ্রমিক দিবস ঘোষণার দাবি করে আসছি। আমরা আজ যখন এই সময়ে দাড়িয়ে চা শ্রমিক দিবস পালন করছি তখন চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা যা কখনো মানবিক মজুরি হতে পারে না। আবার বাগান মালিকরা যে লোকসান করছে তেমন সংবাদও নেই। শ্রমিকরা শ্রম দেয় আর মালিকরা অতিমুনাফা করতে ব্যস্ত। আমরা চা শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দাবি করছি চা-শ্রমিকদের নূন্যতম দৈনিক মজুরি ৬০০টাকা নির্ধারণ করতে হবে। চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং আপোষকামী ধারার ইউনিয়নের বিপরীতে চা শ্রমিক ফেডারেশনকে শক্তিশালী করতে হবে।
‎আলোচনা সভায় চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৬০০টাকা নির্ধারণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা, এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার এবং বাগান ধ্বংসকারী কোন প্রকল্প বাগানে নেওয়া যাবে না। তাছাড়া বাগানে সৌরবিদ্যুত প্রকল্পের পায়তারা বন্ধের দাবি রাখেন।
‎আলোচনা সভা পরবর্তী বিকাল ৩টায় শহরে দাবি সম্বলিত লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত দেওয়া হয়।


সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: