Thursday, July 23, 2026
Thursday, July 23, 2026
Homeবিশেষ প্রতিবেদনডিমলায় তিস্তা নদীতে মাছ ধরার পাতা চায়না জালে ৭ ফুট অজগর সাপ...

ডিমলায় তিস্তা নদীতে মাছ ধরার পাতা চায়না জালে ৭ ফুট অজগর সাপ আটক।

মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীতে মাছ ধরার জন্য পাতা চায়না জালে প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ আটকা পড়েছে। ২২ জুলাই সকালে উপজেলার ১ নম্বর পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন তিস্তা নদী এলাকা থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জেলা সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তারা সাপটি উদ্ধার করেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে স্থানীয় বাসিন্দা মশিয়ার রহমান তিস্তা নদীতে মাছ ধরার জন্য চায়না জাল পেতে রাখেন। বুধবার সকালে জাল তুলতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একটি বড় অজগর সাপ জালে আটকা পড়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জালসহ সাপটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাপটি একনজর দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। পরে খবর পেয়ে জেলা সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অজগরটি উদ্ধার করেন। জেলা সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার বলেন, খবর পেয়ে প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সাপটি রংপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে। জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক পোস্ট

সাম্প্রতিক মন্তব্য

%d bloggers like this: