
মো: জাহিদুল ইসলাম,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি।
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজানের ঢলে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর ডানতীরে প্রধান বাঁধের ২০ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ওই এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল। এসময় বাঁধে আশ্রয়কৃত পরিবার ও অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতিকালে এ অঞ্চলে টানা বর্ষণ চলছে। বর্ষণের কারনে তিস্তা নদীতে উজানের ঢল ধেয়ে আসছে। ফলে নদীর পানি ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তার নদীর ডান তীর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রধান বাঁধে আঘাত করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃহস্পতিবার(৩০এপ্রিল) বিকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ৫১.৩৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যা ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২.১৫) দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া এই পয়েন্টে গত বুধবার(২৯এপ্রিল) পানি প্রবাহ ছিল ৫০.৭৫ সেন্টিমিটার। ২৪ ঘন্টায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায় দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটার। এতে ডান তীর প্রধান বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্ট থেকে উজানে বাংলাদেশের সীমানা পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ জিরো পয়েন্ট টি-হেড পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তানদীর ডান তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণের এই প্রতিরক্ষা প্রধান বাঁধ রয়েছে। দীর্ঘ সময়ে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে শতশত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেয় এই বাঁধজুড়ে। সম্প্রতিকালে টানা বর্ষন ও উজানের ঢলে বাধটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল সহ অসংখ্য স্থানে বাঁধের মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এতে নদীর পানি চুয়ে বাঁধ ভেদ করে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এ অবস্থায় আসছে বর্ষাকালে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবলভাবে দেখা দিচ্ছে। এতে তিস্তার পানি মূল ভূখন্ডে প্রবেশ নীলফামারী জেলার ডিমলা জলঢাকা কিশোরগঞ্জ উপজেলা হয়ে বিভাগীয় শহর রংপুর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
এদিকে বুধবার(২৯এপ্রিল) বিকালে প্রধান বাঁধটি রক্ষার্থে ২০ কিলোমিটার এলাকার বাঁধটি পরিদর্শন করেন ডিমলা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শনে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান ও ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা, শাখা কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম, কালীগঞ্জ বিওপির সুবেদার আইয়ুব আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এবিষয়ে ইউএনও মো: ইমরানুজ্জামান বলেন, জাতীয় স্বার্থে বাঁধ রক্ষা করা জরুরি। অবৈধ স্থাপনা সরাতে তিন দিনব্যাপী মাইকিং করা হবে এবং জমির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা স্থাপন করা হবে। তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ না হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বাঁধটি মেরামতে আনুমানিক এক কোটি টাকা ব্যয় হবে। ইতোমধ্যে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২৫০ মিটার বাঁধ সংস্কারের জন্য ৮৬ লখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করেছেন। এ সময় তিনি জানান, বাধে আশ্রয়কৃতদের সারানো জরুরী। পাশাপাশি অবৈধ দখলমুক্ত না করলে টেকসই সংস্কারে পুনরায় মেরামত করা সম্ভব নয়। এদিকে বাঁধে আশ্রয়কৃত পরিবারগুলো জানান, তাদের বসতভিটার স্থায়ী সমাধান করা জরুরী। তা নাহলে তারা বাঁধ ছেড়ে কোথায় আশ্রয় নেবে।


